পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। আজ শনিবার বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পাবলিক মাঠে
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। আজ শনিবার বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পাবলিক মাঠে

গণভোট নিয়ে কেউ কেউ দ্বিচারিতা করছেন: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘গণভোট নিয়ে কেউ কেউ দ্বিচারিতা করছেন। দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, বাংলাদেশ এমন এক রাজনীতির পথে চলছে, অনেকেই প্রকাশ্যে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে কথা বললেও গোপনে গোপনে “না” ভোটের জন্য মানুষকে সংগঠিত করছেন।’

আজ শনিবার বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পাবলিক মাঠে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক এ কথা বলেন। এ সময় তিনি এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চান।

সভায় মামুনুল হক বলেন, ‘একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার ফসল ঘরে তোলার লক্ষ্যেই চব্বিশের জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ করছি, যেভাবে একসময় পরাজিত শক্তি মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালিয়েছিল, সেই একই শক্তি আবার জুলাই বিপ্লবকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। বাংলাদেশকে পাহারা দেওয়ার জন্যই ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪–এর আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ইসলামি দলের ঐক্য গড়ে উঠেছে। দুর্ভাগ্যজনক কারণে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার ফসল ঘরে তুলতে পারেনি শাসকগোষ্ঠীর ব্যর্থতার কারণে। দুর্নীতিতে বারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ১০–দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে।’

সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ কখনোই ঋণখেলাপিদের হাতে উঠিয়ে দেব না। আগামীর বাংলাদেশ ব্যাংক ডাকাতদের হাতে তুলে দেব না। স্পষ্ট ভাষায় বলছি, ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতদের আমরা সংসদে যেতে দেব না।’

আগামীর বাংলাদেশ সমতার বাংলাদেশ উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনাকে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, পাহাড়ি বা সমতলের পরিচয় ব্যবহার করা লাগবে না। আপনার কেবলমাত্র পরিচয়—আপনি বাংলাদেশি। বাংলাদেশি পরিচয়ে আপনি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের সমান অধিকার পাবেন। ১০–দলীয় ঐক্যজোটকে নির্বাচিত করলে আগামীর বাংলাদেশ হবে সমতার বাংলাদেশ, আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের জন্য গুম করা হবে না। যে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের জন্য আপনাকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে না।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অতীতে যেটা হতো, সংসদ সদস্যরা সংসদে যাওয়ার পরে চোর হতো, টেন্ডারবাজ হতো, লাইসেন্স নিজের নামে নিয়ে চুরি করত। আর এবার দেখলাম, একটা দলের ৪৫ জন চোরকে আবার সংসদে ঢোকাচ্ছে। সংসদে যাওয়ার আগেই তারা ডাকাত হয়ে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের রক্তকে বারবার ব্যবহার করে শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় গেছে। এই তরুণ প্রজন্মের রক্ত, রক্তমাখা ক্ষমতা, রক্তমাখা গদি শাসকগোষ্ঠীর খুব পছন্দের। এত দিন আমরা রক্ত দিয়েছি। এখন থেকে আমরা পলিসি নির্ধারণেও অংশগ্রহণ করব।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘কিছুদিন আগে দেখলাম, বন্দর একটা বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ায় অনেক দল রাস্তায় এসে আন্দোলন করল। বন্দর নাকি বিদেশিদের হাতে তুলে দেবে না। অথচ ১৩৮ বছরের ইতিহাসে বন্দর থেকে সবচেয়ে বেশি আয় এবার হয়েছে।’