
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার বেলা তিনটায় বিজয় ২৪ ছাত্রী হল, সামসুন্নাহার হল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া হলের ৪০-৪৫ জন নারী শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা প্রথমে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে যান।
বিক্ষোভের সময় ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হাজারখানেক শিক্ষার্থী আহত হলেও উপাচার্য বলছেন ২০০ শিক্ষার্থীর কথা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্সের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল জামান বলেন, সংঘর্ষে হাজারখানেক শিক্ষার্থী আহত হলেও উপাচার্য সংবাদ সম্মেলনে মাত্র ২০০ জনের কথা বলেছেন। ২ নম্বর গেটে নিরাপত্তা সংকট ও নারী হেনস্তার ঘটনায়ও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
ব্যাংকিং এবং ইনস্যুরেন্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার বলেন, গত দুই দিনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের বৈঠক
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আজ বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২ নম্বর গেটের স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল বৈঠক বর্জন করে।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সদস্যসচিব আল মাসনূন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আহতদের বিষয়ে আলাপ–আলোচনা কম ছিল বৈঠকে। আমাদের দুই ভাই এখন হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের বিচারের বিষয়ে আলোচনা না করে বৈঠকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ জন্য আমরা বৈঠক বর্জন করে বেরিয়ে এসেছি।’
গত শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টা থেকে গতকাল রোববার বেলা তিনটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত। দুই দফা সংঘর্ষে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ ও অন্তত ২২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ ঘটনায় তাঁদের পক্ষের আহত হয়েছেন ১০ থেকে ১২ জন। সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আহত শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন। এর মধ্যে তিন শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।