আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মেছো বাঘটি। গত রোববার নেত্রকোনার জয়নগর এলাকায়
আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মেছো বাঘটি। গত রোববার নেত্রকোনার জয়নগর এলাকায়

ট্রাকের ধাক্কায় আহত মেছো বিড়ালটির অবস্থা সংকটাপন্ন, অস্ত্রোপচার

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় আহত মেছো বাঘটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ভেটেরিনারি অনুষদের সার্জারি অবস্টেটিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক রফিকুল আলমের তত্ত্বাবধানে প্রাণীটির অস্ত্রোপচার করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম। এর আগে গতকাল দুপুরে নেত্রকোনা বন বিভাগ থেকে প্রাণীটিকে নিয়ে যান ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন বিভাগের লোকজন।

মেছো বিড়ালটি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে রফিকুল আলম মুঠোফোনে বলেন, গতকাল প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে প্রাণীটির অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে সহযোগিতা করেন বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদুল আলম। ট্রাকের ধাক্কায় এটির জিবের প্রায় ৯০ শতাংশ কেটে গেছে। জিবের উপরিভাগ (তালু), চোয়ালের তিনটি স্থান এবং মাথার কেটে যাওয়া অংশে সেলাই দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রাণীটি খুব দুর্বল। এ অবস্থায় কোনো খাবার গ্রহণ সম্ভব না হওয়ায় একে প্যারেনটেরাল নিউট্রিশনে রাখা হয়েছে। অন্তত ৭২ ঘণ্টা এটি পর্যবেক্ষণে থাকবে।

গত শনিবার রাতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার সতরোশ্রী এলাকায় নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ সড়কের ট্রাকের ধাক্কায় আহত হয় মেছো বিড়ালটি। পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় জমান। এ সময় কেউ কেউ প্রাণীটিকে চিতাবাঘ মনে করে মেরে ফেলতে চাইলে কয়েকজন বাধা দেন। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন প্রাণীটিকে উদ্ধার করে শহরের জয়নগর এলাকায় নিজেদের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল এটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

প্রথমে বন বিভাগের লোকজন প্রাণীটিকে গন্ধগোকুল হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ নিয়ে গত রোববার প্রথম আলোতে ‘নেত্রকোনায় রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় আহত গন্ধগোকুল উদ্ধার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমানের বরাতে বলা হয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হলে প্রাণীটির সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়বে।

বিষয়টি নজরে এলে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশনায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাণীটিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ক্লিনিকে পাঠানো হয়।