কক্সবাজারে সংবাদসম্মেলন বক্তব্য দেন হ্যাচারি মালিকেরা। আজ বুধবার দুপুরে
কক্সবাজারে সংবাদসম্মেলন বক্তব্য দেন হ্যাচারি মালিকেরা। আজ বুধবার দুপুরে

ভারত থেকে ভেনামি চিংড়ির ‘নপলি’ আমদানির অনুমোদন, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

দেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভারত থেকে প্রায় ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির ‘নপলি’ আমদানির অনুমতি দিয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের চিংড়ি হ্যাচারির মালিকেরা। তাঁদের দাবি, আইন ও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে মৎস্য অধিদপ্তর এ অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশে চিংড়ি পোনা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৫০টি হ্যাচারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

আজ বুধবার দুপুরে কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন হ্যাচারির মালিকেরা। শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে ‘শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব)’ নামের একটি সংগঠন এ সংবাদ সম্মেলন করে। এতে লিখিত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান।

নপলি চিংড়ির জীবনের একেবারে প্রথম ধাপ। ডিম ফুটে বের হওয়ার পর চিংড়ির প্রাথমিক দশাকে নপলি বলে। এগুলো দেখতে অনেকটা মাকড়সার মতো। নপলি থেকে পোনা হতে সময় লাগে ১৮ থেকে ২১ দিন। এরপরই পোনা চাষের জন্য বাজারজাত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লুৎফুর রহমান বলেন, গত ৩ ডিসেম্বর মৎস্য অধিদপ্তর সাতক্ষীরার দেবহাটার পুরুলিয়া বাজারের ‘তৌফিক এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভারত থেকে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নপলি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। পরে ২৩ ডিসেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। অনুমতি পাওয়ার পর কলকাতার ‘বিধা ফিশ ট্রেডার্স’ নামের প্রতিষ্ঠান থেকে নপলি আমদানির প্রস্তুতি চলছে।

লুৎফুর রহমান বলেন, ‘অনুমোদন পাওয়া এ নপলি দেশে এলে পরবর্তী সময় আরও বেশি আসবে। এটি আর নিয়ন্ত্রণের কোনো উপায় থাকবে না। ভেনামি নপলি আমদানি বন্ধের দাবিতে ইতিমধ্যে তাঁরা মৎস্য উপদেষ্টা ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন, তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির মহাসচিব গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের এই অনুমতি সরাসরি ২০২৩ সালে প্রণীত ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন নীতিমালা এবং ‘মৎস্য সঙ্গনিরোধ বিধিমালা-২০২৪’-এর লঙ্ঘন। বিদ্যমান বিধিমালায় ভেনামি চিংড়ির নপলি আমদানির কোনো আইনি সুযোগ নেই।

গিয়াস উদ্দিন বলেন, বর্তমানে দেশে ভেনামি চিংড়ির পিএল উৎপাদনের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত ছয়টি হ্যাচারি রয়েছে। এসব হ্যাচারি কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলক ভেনামি চাষে পোনা সরবরাহ করছে। ফলে আলাদাভাবে নপলি আমদানির কোনো যৌক্তিকতা নেই।

দেশেই পর্যাপ্ত ভেনামি উৎপাদন হচ্ছে উল্লেখ করে গিয়াস উদ্দিন বলেন, বর্তমানে মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি অনুযায়ী ভেনামি চাষে সর্বোচ্চ পোনার প্রয়োজন পড়ে ১৫ থেকে ২০ কোটি। অথচ অনুমোদিত ৬টি হ্যাচারির উৎপাদনক্ষমতা ২০০ থেকে ২৫০ কোটি পোনা। এ অবস্থায় ভারত থেকে ৪২ কোটি নপলি আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব জিসান উদ্দিন, সহসভাপতি শাহেদ আলী, সাবেক অর্থ সম্পাদক মো. আলমগীর, সদস্য ভুলু চৌধুরী প্রমুখ।