
গাইবান্ধার সেই ‘এক টাকার মাস্টার’ লুৎফর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা এসব উপহারসামগ্রী তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন।
উপহার হিসেবে লুৎফর রহমানের জন্য পাঞ্জাবি, পায়জামা, টুপি ও তাঁর স্ত্রীর জন্য শাড়ি, খাদ্যসামগ্রী এবং ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক লুৎফর রহমানের হাতে এসব সামগ্রী ও নগদ টাকা তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) যাদব সরকার, গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেন প্রমুখ।
উপহার পেয়ে লুৎফর রহমান বলেন, ‘ঈদের বাজার করা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে খুশি হয়েছি। ভালোভাবে ঈদ করতে পারব। যত দিন বেঁচে থাকব, সুস্থ থাকব, শিশুদের পড়ানো অব্যাহত রাখব।’
লুৎফর রহমানকে নিয়ে ১৫ মে প্রথম আলোতে ‘৭৮ বছর বয়সেও ছড়াচ্ছেন আলো’ শিরোনামে ভিডিও প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এ ছাড়া এক টাকার মাস্টারকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হওয়ায় লুৎফর রহমানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ঈদ উপলক্ষে এক টাকার মাস্টারকে উপহারসামগ্রী দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই এক টাকার মাস্টারকে এসব ঈদ উপহারসামগ্রী তাঁর বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাগুড়িয়া গ্রামের লুৎফর রহমান বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। কিন্তু তাঁর পাঠদান শক্তি প্রচণ্ড। প্রায় ৫১ বছর আগে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছে দৈনিক দুই মুষ্টি চাল নিয়ে টিউশনি শুরু করেন।
পরবর্তী সময়ে দৈনিক নেন এক টাকা। এখনো এক টাকা ফিতেই পড়াচ্ছেন তিনি। এভাবে প্রতিদিন গড়ে ৬০ জন শিশু ছাত্রছাত্রীকে পড়িয়ে মাসিক পাচ্ছেন ১ হাজার ৮০০ টাকা। তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চলছে। তাঁর নাম লুৎফর রহমান হলেও স্থানীয়ভাবে তিনি ’এক টাকার মাস্টার’ নামে পরিচিত। শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একাধিক পুরস্কারও পেয়েছেন। ভাইরাল হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।