
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা ও সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ায় বিএনপির ১১ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কামাল জামান মোল্লা এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহাজ প্রতীক ও সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ কারণে সম্প্রতি বিএনপির সদস্যপদ থেকে তাঁদের দুজনকে বহিষ্কার করা হয়। এবার তাঁদের সমর্থকদের বহিষ্কার করা হলো। বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, যেসব নেতা-কর্মী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করছেন, সামনে তাঁদেরও চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা হলেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজাহান মোল্লা সাজু, সদস্য মাহাবুব মাদবর, শামীম চৌধুরী, ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান, শিবচর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পান্নু গোমস্তা, সাইদুজ্জামান নাসিম, আলমগীর হোসেন আলম, শিবচর পৌর বিএনপির সদস্য মোস্তফা মোল্লা, কুদ্দুস মোল্লা ও মাদারীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুমন চৌধুরী। এ ছাড়া কামাল জামানের পক্ষে সক্রিয় থাকায় সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য মো. আছিফ তুহিন গাজীকেও বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে ২১ জানুয়ারি রাতে জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক ও মাদারীপুর-১ আসনের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী, শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল জামান মোল্লা ও জেলা বিএনপির সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কার করা হয়।
শিবচর বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, গতকাল রাতে বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান ও সাজ্জাদ হোসেনের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।
জানতে চাইলে মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাফর আলী মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে তাদের বিষয়ে দলীয় তদন্ত হয়েছে। জেলা বিএনপির কাছে মতামতও চাওয়া হয়েছে। আমরা মতামত জানিয়েছি। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আরও যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন, তাদেরও বহিষ্কার করা হবে।
পদ হারানোর প্রতিক্রিয়ায় শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজাহান মোল্লা সাজু প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল বহিষ্কার করতে পারে। কিন্তু অন্য পদের সদস্যদের যেভাবে বহিষ্কার করা হচ্ছে তা একতফা। বিএনপির সংবিধানের বাহিরে গিয়ে এই বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে আমাদের কী হবে? আমরা নির্বাচন করব, এমপি হব, আমরা দেশ পরিচালনা করব। কেন্দ্রের বহিষ্কার আমরা মানি না।’
জানতে চাইলে মাদারীপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম সবাইকে একত্র করতে। উপজেলা ও তৃণমূলের বহু নেতা–কর্মী দলীয় প্রার্থী ও ধানের শীর্ষের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। তখন বিদ্রোহী দুই প্রার্থীর অনৈতিক সুবিধার কারণে কিছু নেতা–কর্মী দলের বাহিরে অবস্থান নিয়েছেন। দল থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখনো যাঁরা দলের বাইরে আছেন, তাঁদের ব্যাপারেও দল যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’
উল্লেখ্য, বিএনপি প্রথমে পর্যায়ে মাদারীপুর-১ আসনে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল জামান মোল্লাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। পরে মনোনয়নবঞ্চিত সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর সমর্থকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করলে তাঁর মনোনয়ন স্থগিত করে দ্বিতীয় দফায় জেলা বিএনপির সদস্য ও শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এই আসনে বিএনপি ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী ছাড়াও ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল আলী, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মিন্টু, খেলাফত মজলিসের সাইদ উবিন আহমাদ হানজালা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আকরাম হুসাইন, গণঅধিকার পরিষদের রাজিব মোল্লা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির হাদিজুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান।