দুধকুমার নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। আজ সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুড়িয়ারহাট এলাকায়
দুধকুমার নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। আজ সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুড়িয়ারহাট এলাকায়

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় দুধকুমার নদের মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মালিয়ানী, তেলিয়ানীরপাড়, বড়মানী গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। আজ সোমবার দুপুরে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবদুল মান্নান দুধকুমার নদের বাঁধ ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টায় জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা নদীর পানি কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার কুড়িগ্রাম পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক শূন্য ৫ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৩ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার, তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার ও দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, কয়েক দিন থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে দুধকুমার নদের পানি বেড়ে বাঁধে ধস দেখা দেয়। সময়মতো মেরামত না করায় ওই বাঁধ ভেঙে যায়। রোববার বিকেলে বাঁধের একটি অংশ দিয়ে নদের পানি লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। বাঁধ ভেঙে ইতিমধ্যে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, মালিয়ানী, সেনপাড়া, তেলিয়ানীপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা, ধনিটারী, বড়মানী, নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ার ভিটা, ফকিরটারী গ্রামে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, দুধকুমার নদের পানি বেড়ে মিয়াপাড়া, মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ও বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকেছে। এ ছাড়া দুধকুমার নদের পানি বেড়ে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত তাঁরা সরকারি কোনো সহায়তা পাননি বলেও তিনি জানান।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সমতলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুধকুমার নদের পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে দুধকুমার নদের পাড়ে একটি নিচু সড়ক তলিয়ে গিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে পানি প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দুধকুমার নদের পাড় দিয়ে বেড়িবাঁধ তৈরির চেষ্টার সময় মুড়িয়ারহাট এলাকার ওই জায়গায় জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রায় ৩০০ মিটার এলাকায় বাঁধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই অংশ দিয়েই পানি ঢুকেছে।’

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাঁধ ভাঙার বিষয়টি আমি জেনেছি। পাউবোকে জানানো হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে বেড়িবাঁধের ভাঙনকবলিত স্থান মেরামতের জন্য রওনা দিয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি।’