
নারায়ণগঞ্জ শহরের চানমারী মাউরাপট্টি এলাকায় মো. নাসির (৫৫) নামের ডিশ লাইনের ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থেকে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলের পাশের একটি বাড়ি থেকে রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছে। নিহত নাসির শহরের চানমারী মাউরাপট্টি এলাকার মৃত সাইজ্জদিনের ছেলে। তিনি ‘ফ্রেন্ডস কেব্ল’ নামের একটি ডিশ ও কেব্ল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, আজ বেলা একটার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাউরাপট্টি এলাকায় ফ্রেন্ডস কেব্লস ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার মো. নাসিরকে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত তাঁকে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইরফান হোসেন জানান, নিহত ব্যক্তির শরীরে তিনটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী অটোরিকশাচালক আলাউদ্দিন জানান, কালো পাঞ্জাবি পরিহিত একজনকে রক্তমাখা ছুরি হাতে দৌড়ে মাইক্রোস্ট্যান্ডের দিকে চলে যেতে দেখেছেন।
নিহত নাসিরের স্ত্রী সায়মা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদার আব্দুস সালামের (বাবু) বিরোধ আছে। এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিকল্পিতভাবে তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম প্রথম আলোকে বলেন, ছুরিকাঘাতে নাসির নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। পাশের একটি বাড়ি থেকে রক্তমাখা ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।