
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মসূচির বিরুদ্ধে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’র ব্যানারে গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এখন তারা আবার দেশের রাজনীতিতে শামিল হওয়ার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর এই ফ্যাসিস্টদের আর কোনো উত্থান হতে দেওয়া হবে না। ছাত্রলীগ যদি ক্যাম্পাসে কোনো কর্মসূচি দেওয়ার চেষ্টা করে, তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে। আওয়ামী লীগ আগামী ১–১৮ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আশিক আহমেদ বলেন, স্বৈরাচারের দোসর সংগঠন ছাত্রলীগের ঠিকানা এই দেশে হবে না। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে ছাত্রসমাজ।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া সারা বাংলাদেশের মানুষ এদের শক্ত হাতে দমন করবে। তারা খুন-গুমের মতো জঘন্য কাজ করেছে, বাংলার মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে; তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হতে হবে। আগামী নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না।’
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের পতন ঘটিয়েছেন ছাত্র-জনতা। যাদের হাতে রক্ত ঝরেছে, তারা আগামীতে কোনো নির্বাচনের কথা ভাবতেই পারে না। সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ বাংলার মাটিতে জায়গা নিতে চাইলে আবারও ছাত্র–জনতা জেগে উঠবেন, প্রতিহত করবেন। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানে আবু সাইদসহ যাঁরা রক্ত দিয়েছেন, আহত ও নিহত হয়েছেন, তাঁদের রক্তের বিনিময়ে এই ফ্যাসিস্টদের বিচার বাংলার মাটিতেই করতে হবে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন, মাইনুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, মমিনুল ইসলাম রানা প্রমুখ।