বান্দরবানের লামার মাতামুহুরী নদী
বান্দরবানের লামার মাতামুহুরী নদী

লামায় নারী পর্যটকের শ্লীলতাহানি ও ভিডিও ধারণ, অবকাশকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার

বান্দরবানের লামায় নারী পর্যটককে শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি অবকাশকেন্দ্রের ব্যবস্থাপকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন অবকাশকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাশেদ (২৫) ও তাঁর সঙ্গী মো. হৃদয় (২৮)। আজ সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহাজাহান কামাল জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তিন পর্যটক ২৫ জুন মাতামুহুরী নদীতে নৌকাভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। যন্ত্রচালিত নৌকায় লামা উপজেলা সদরে যাওয়ার সময় তাঁদের মধ্যে একজন নারী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর নদীর তীরে একটি অবকাশযাপনকেন্দ্রে বিশ্রামের জন্য যান তাঁরা। সেখানে দুই নারী পর্যটককে শ্লীলতাহানির পর ভিডিও ধারণ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পর্যটকদের একজন বাদী হয়েছে মোহাম্মদ রাশেদ, মো. হৃদয়সহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এরপর রোববার সন্ধ্যায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নারী পর্যটকদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় গ্রেপ্তার অবকাশকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাশেদ (বামে) ও তাঁর সঙ্গী মো. হৃদয়

মামলায় উল্লেখ করা হয়, মানিকপুরের কাছাকাছি লামা উপজেলার ওই অবকাশযাপনকেন্দ্রে কিছুক্ষণ বিশ্রামের জন্য পর্যটকেরা একটি কক্ষ নিয়েছিলেন। কক্ষে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে অবকাশযাপনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. রাশেদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা মো. হৃদয় বাইরের থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। তাঁরা আরও সাত থেকে আটজন লোক নিয়ে এসে কক্ষে ঢুকে পর্যটকদের মুঠোফোন কেড়ে নেন। এরপর দুই নারীকে শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় দুজনের কানের দুল ও ব্যাগে থাকা ৪৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাঁরা ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।

লামার থানার ওসি মুহাম্মদ শাহাজাহান কামাল বলেছেন, মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে নারী পর্যটকের কানের দুল ও আট হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।