সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী মোহাম্মদ সোলাইমান
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী মোহাম্মদ সোলাইমান

‘তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও’

বাড়ির উঠানে চেয়ার পেতে দেওয়া হয়েছে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীরা আসা–যাওয়া করছেন। ঘরে বিলাপ করে কাঁদছিলেন মা জাহানারা বেগম ও স্ত্রী ডলি আকতার। বিলাপ করতে করতে জাহানারা বারবার বলছিলেন, ‘তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও।’ তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন লোকজন।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত মোহাম্মদ সোলাইমানের (৩৭) বাড়ির পরিবেশ ছিল এমনই শোকাবহ। গতকাল রোববার রাত ১০টার সময় চট্টগ্রাম নগরের ফিশারিঘাট এলাকায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর।

কাতারপ্রবাসী সোলাইমান এক মাস আগে দেশে আসেন। তাঁর বাবার নাম মনিরুজ্জামান। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া গ্রামে সোলাইমানের বাড়িতে সান্ত্বনা জানাতে এসেছিলেন গ্রামের মানুষজন। আজ সোমবার বেলা দেড়টায় ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উত্তর পাশে তাঁর জন্য কবর খোঁড়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়ায় তাঁর লাশ তখনো এসে পৌঁছায়নি।

জানা গেছে, রোববার বিকেলে নগরের একটি সামাজিক যোগাযোগ কেন্দ্রে বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যান মোহাম্মদ সোলাইমান। পরে রাতে চট্টগ্রাম শহর থেকে বন্ধু রফিকুল করিমের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে গ্রামে ফিরছিলেন তিনি। তাঁরা নতুন ফিশারিঘাট এলাকায় এলে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে সোলাইমানের মৃত্যু হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটরসাইকেল দুটি জব্দ করা হয়। পুলিশ ওই সময় সোলাইমানের বন্ধু রফিকুল করিমকে (৩০) আটক করে। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, কাতারপ্রবাসী সোলাইমান এক মাস আগে দেশে আসেন নির্বাচন উপলক্ষে। তিনি আনোয়ারা উপজেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) সহপ্রচার সম্পাদক। দেশে আসার পর বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরব ছিলেন। আগামী ৮ এপ্রিল চলে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর।

নিহতের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘রোববার দুপুরে ঘর থেকে বের হয়ে যায় সোলাইমান। রাতে শুনি সে মারা গেছে। বিষয়টি কীভাবে মেনে নেব? তোমরা আমার ছেলেকে এনে দাও।’

ছেলের মৃত্যুতে বিলাপ করে চলেছেন সোলাইমানের মা জাহানারা বেগম। আজ দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া গ্রামে

স্ত্রী ডলি আকতার বিলাপ করে কাঁদছিলেন। তাঁর কথা বোঝা যাচ্ছিল না। লোকজন চেষ্টা করেও কান্না থামাতে পারছিল না।

তবে নিহতের স্ত্রী ডলি আকতারের ভাই নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, মোটরসাইকেল যিনি চালাচ্ছিলেন, তিনি অক্ষত আছেন। পেছনে বসা মানুষটি কীভাবে মারা গেলেন? এটি রহস্যজনক।

জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক আবদুল কাদের বলেন, রাতের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু ও মোটরসাইকেল মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে।