
ঈদের ছুটির তিন দিনে কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ঘুরেছেন অন্তত ৩৩ হাজার দর্শনার্থী। এই সাফারি পার্কে বাঘ, সিংহ, ভালুক, হাতি, জলহস্তী, কুমিরসহ ৫২ প্রজাতির ৩৪১টি প্রাণী আছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের আগে সাফারি পার্ক পরিদর্শনে যেতেন দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার দর্শনার্থী। ঈদের ছুটিতে তা বেড়েছে অনেক। এখন দৈনিক সর্বোচ্চ ১৫ হাজার দর্শনার্থী বন্য প্রাণী দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
গত সোমবার দুপুরে পার্কে গিয়ে দেখা গেছে অন্তত ১০ হাজার মানুষের ভিড়। দর্শনার্থীরা হেঁটে ও গাড়িতে ঘুরে প্রাণী দেখছেন। কমবেশি সবাই মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, ধারণ করছেন ভিডিওচিত্র।
এর আগে গত শনিবার ঈদের দিন সাফারি পার্কে গেছেন ৮ হাজার দর্শনার্থী। পরদিন রোববার গেছেন প্রায় ১৫ হাজার দর্শনার্থী। সব মিলিয়ে ঈদের ছুটির তিন দিনে অন্তত ৩৩ হাজার দর্শনার্থী সাফারি পার্কে ঘুরেছেন।
সাফারি পার্কের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় ৮০ একরের বাঘবেষ্টনী। বেষ্টনীতে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছে জয়, জুঁই, আঁখি ও বড়ুয়া নামের চারটি বাঘ। বেশির ভাগ দর্শনার্থীর নজর বাঘের দিকে। বেষ্টনীতে দাঁড়িয়ে কিংবা ঘরের ছাদে উঠে অনেকে বাঘ দেখেন। দর্শনার্থীরা কাছাকাছি গেলে হুংকার ছেড়ে তেড়ে আসে বাঘ।
পাশেই ৮০ একরের সিংহবেষ্টনী। পৃথক দুটি কক্ষের একটিতে আছে সম্রাট নামের একটি পুরুষ সিংহ, অপর কক্ষে আছে দুটি স্ত্রী জাতের সিংহ। দর্শনার্থীরা দূর থেকে সিংহের গর্জন শুনছিলেন।
সিংহবেষ্টনীতে সোমবার কথা হয় টেকনাফের চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আনোয়ার কামালের (৫৫) সঙ্গে। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী, তিন ছেলেমেয়েসহ পরিবারের সাতজন। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের বন্য প্রাণীর প্রতি আগ্রহ অনেক। বাড়িতে ডিসকভারি চ্যানেলে প্রাণিকুলের জীবনযাত্রা দেখে তারা প্রাণীদের বিষয়ে খুবই আগ্রহী। তাই তাদের নিয়ে ছুটিতে বেড়াতে এসেছেন।
পার্কে ঢুকতে হাতের বাঁয়ে সরু রাস্তায় চোখে পড়ে অজগর, বানর, সাম্বার, চিত্রা হরিণ ও কুমিরবেষ্টনী। পার্কের পৃথক বেষ্টনীতে চিত্রা হরিণ আছে ১৬টি, ভালুক আছে ১৮টি, হাতি ৪টি, জেব্রা ৬টি, জলহস্তী ১০টি, উটপাখি ৪টি। দর্শনার্থীরা প্রাণীদের ছবি তোলার চেষ্টা করছিলেন।
২০০১ সালের ১৯ জানুয়ারি ২ হাজার ২৫০ একর বনাঞ্চলে গড়ে তোলা হয় দেশের প্রথম এই সাফারি পার্ক। এর আগে ১৯৮০ সালে এটি ছিল হরিণ প্রজননকেন্দ্র। বর্তমানে পার্কের বিভিন্ন বেষ্টনীতে আছে সিংহ, বাঘ, জেব্রা, ওয়াইল্ড বিস্ট, জলহস্তী, ময়ূর, অজগর, কুমির, হাতি, ভালুক, হরিণ, লামচিতা, শকুন, কচ্ছপ, রাজধনেশ, কাকধনেশ, ইগল, সাদা বক, রঙ্গিলা বক, সারস, কাস্তেচরা, মথুরা, নিশিবক, কানিবক, বনগরুসহ ৫২ প্রজাতির ৩৪১ প্রাণী।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণে এসেছেন চার লাখের বেশি পর্যটক। তাঁদের অনেকেই সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন। সাফারি পার্ক দেখতে আসা ৩৩ হাজার দর্শনার্থীর ৮০ শতাংশ কক্সবাজারের বাসিন্দা। বাকি ২০ শতাংশ বাইরের জেলার পর্যটক। স্বাভাবিক সময়ে সাফারি পার্কে দৈনিক গড়ে পাঁচ হাজার দর্শনার্থী আসেন।
সাফারি পার্ক ঘোরার জন্য আছে একটি এসি ও দুটি নন–এসি বাস। পার্কে ঢুকতে টিকিট কাটতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ৫০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের (১৫ বছরের নিচে) টিকিটের মূল্য ২০ টাকা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাফারি পার্ক খোলা থাকে। সপ্তাহে এক দিন (মঙ্গলবার) সাফারি পার্কটি বন্ধ থাকে।