মাসব্যাপী বিনা মূল্যে ইফতারের আয়োজন করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে
মাসব্যাপী বিনা মূল্যে ইফতারের আয়োজন করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে

টাঙ্গাইলে প্রতিদিন তিন শতাধিক মানুষের জন্য বিনা মূল্যে ইফতার আয়োজন

বিকেল পাঁচটা। টাঙ্গাইল শহীদ মিনার চত্বর। সারি সারি প্লেটে ইফতারি সাজানো হচ্ছে। পাশেই কয়েকজন তৈরি করছেন শরবত। সবাই ব্যস্ত। দু–একজন করে মানুষ আসছেন। তাঁদের বসানো হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে মানুষ বাড়ছে। ইফতারের আগে তিন শতাধিক মানুষে পূর্ণ হয়ে গেল শহীদ মিনার এলাকা। মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই ইফতার করতে শুরু করলেন।

এ দৃশ্য গত রোববারের। পুরো রোজার মাস এই ইফতারের আয়োজন করেন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ত্রিবেণী ও বিন্দুবাসিনী সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের ১৯৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ সাল থেকে তাঁরা এ আয়োজন করে আসছেন। এখানে বিনা মূল্যে যে কেউ ইফতার করতে পারেন। গরিব, অসহায়, ছিন্নমূল মানুষের পাশাপাশি পথচারীরাও এখানে ইফতারে অংশ নেন।

রোববার বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবকেরা প্লেটে ছোলা, পেঁয়াজু, মুড়ি, ডিম, বেগুনি ও খেজুর সাজাচ্ছেন। কেউ কেউ অতিথিদের বসার জন্য মাদুর বিছাচ্ছেন শহীদ মিনার চত্বরে। ত্রিবেণীর সভাপতি মোমেনুল ইসলাম এসব কাজ তদারক করছেন। রোজাদাররা আসার পর তাঁদের বসানোর ব্যবস্থা করছেন আরও কয়েকজন। একপর্যায়ে একজন মৌলভি এসে কোরআন তিলাওয়াত শুরু করেন।

ত্রিবেণীর যুগ্ম সম্পাদক শামীমুর রহমান জানান, প্রতিদিন সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ তাঁদের এই ইফতার আয়োজনে অংশ নেন। সাধারণ ইফতারের পাশাপাশি সপ্তাহে দু–একদিন খিচুড়ি ও মাংসের ব্যবস্থাও করা হয়। সাধারণ ইফতারে প্রতিদিন তাঁদের খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা। আর যেদিন খিচুড়ি দেওয়া হয়, সেদিন ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। তিনি জানান, ত্রিবেণীতে ৬০ জন ও বিন্দুবাসিনী সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯২ ব্যাচের ১১৬ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা চাঁদা দিয়ে প্রতিবছর এই ইফতারের আয়োজন করেন।

ইফতার করতে আসা রিকশাচালক শরাফত আলী বলেন, বিনা মূল্যে এখানে ইফতারের ব্যবস্থা থাকায় খুব সুবিধা হয়েছে। তাঁর মতো দরিদ্র মানুষেরা সহজেই ইফতার করতে পারেন।

জ্যোৎস্না বেগম নামের এক নারী জানান, সারা দিন ভিক্ষা করে সন্ধ্যায় এখানে এসে ইফতার করেন। তাঁর মতো আরও অনেক মানুষ এখানে ইফতার করেন।

কথা হয় সরকারি সাদত কলেজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী জহির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, শহরে কাজে এসেছিলেন। ইফতারের সময় হয়ে যায়। আশপাশের কোনো রেস্তোরাঁয় আসন পাচ্ছিলেন না। পরে এখানে ইফতারের ব্যবস্থা দেখে চলে আসেন। তিনি বলেন, এমন আয়োজনে পথচারী রোজাদারদের খুবই উপকার হচ্ছে।

মৌলভি আনোয়ার হোসেন জানান, এখানে দুস্থ অসহায় মানুষের পাশাপাশি পথচারীরা ইফতারের সুযোগ পাচ্ছেন। এটা খুবই ভালো আয়োজন।

সরকারি এমএম আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, কয়েক বছর ধরে রোজায় মাসব্যাপী যে ইফতারের আয়োজন করা হয়, এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

এদের মতো সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন তাদের নিজ নিজ এলাকায় এমন আয়োজনের উদ্যোগ নিতে পারে। এতে দরিদ্র অসহায় রোজাদারদের খুব উপকার হবে।

ত্রিবেণীর সভাপতি মোমিনুল ইসলাম জানান, তাঁরা ইফতারের পাশাপাশি বন্যা, শীতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকেন। রোজা শেষে ঈদেও দরিদ্র মানুষদের সহযোগিতা করেন।