ছুরিকাঘাত
ছুরিকাঘাত

শরীয়তপুরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, পেট্রল ঢেলে শরীরে আগুন

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙ্গা বাজারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ওই ব্যবসায়ী হলেন খোকন চন্দ্র দাস (৫০)। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ডামুড্যা থানা সূত্র জানায়, কনেশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিলই গ্রামের বাসিন্দা পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে খোকন চন্দ্র দাস কেউরভাঙ্গা বাজারে ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করেন। গতকাল বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে সারা দিনের বিক্রির টাকা নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ডামুড্যা-শরীয়তপুর সড়কে কেউরভাঙ্গা বাজারের অদূরে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা থামিয়ে তাঁকে মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এরপর তাঁর মাথায় পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচতে খোকন চন্দ্র দাস সড়কের পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

আহত খোকন দাসের স্ত্রী সীমা দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্বামী প্রতিদিন রাতে দোকান বন্ধ করে সারা দিনের বিক্রির টাকা নিয়ে বাড়িতে ফেরেন। বুধবার রাতে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর হামলা করে। তিনি হামলাকারীদের দুজনকে চিনে ফেলেছিলেন, যার কারণে তারা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে, মাথায় ও মুখমণ্ডলে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এলাকায় আমাদের কোনো শত্রু নেই। কোনো বিষয় নিয়ে কারও সঙ্গে বিরোধ নেই। কেন সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করে আমার স্বামীকে নিশানা করে আক্রমণ করল, আমরা তা বুঝতে পারছি না।’

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাতে যে ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পেটের একটি আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর মুখমণ্ডল, মাথার পেছনে ও হাতে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেউরভাঙ্গা বাজারের এক ব্যবসায়ীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। হামলাকারীদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন স্থানীয় রাব্বি ও সোহাগ। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।’