‘সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারের হুমকির’ প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বেলা আড়াইটায় চট্টগ্রাম নগরের এস এস খালেদ সড়কে
‘সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারের হুমকির’ প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বেলা আড়াইটায় চট্টগ্রাম নগরের এস এস খালেদ সড়কে

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারের ‘হুমকির’ প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

‘সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনারের হুমকির’ প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় চট্টগ্রাম নগরের এস এস খালেদ রোডে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক।

কর্মসূচিতে সিইউজের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াইনি। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও দাঁড়াইনি। আমরা দাঁড়িয়েছি সহকর্মীর প্রতি একজন পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। অবিলম্বে পুলিশ কমিশনারের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের উদ্যোগ না দিলে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সাংবাদিকদের নিয়ে সংগ্রামী কর্মসূচি পালিত হবে।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম বলেন, সাংবাদিকেরা নিশ্চুপ থাকলে সমাজ অন্ধকার হয়ে যাবে। প্রকৃত সাংবাদিকদের কোনো বন্ধু নেই। সাংবাদিকদের প্রকৃত বন্ধু হচ্ছে জনগণ।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন মো. রেজা বলেন, সাংবাদিকেরা জেগে উঠেছেন। সাংবাদিকেরা প্রতিবাদ করতে রাজপথে এসেছেন। এ প্রতিবাদী কর্মসূচির মাধ্যমে সাংবাদিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, ‘পুলিশ কমিশনারের প্রতিবাদলিপিকে আমি প্রতিবাদলিপি বলছি না। আমি এটাকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছি। কমিশনার এ ধরনের ভাষায় কথা বলতে পারেন না।’

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমদ, নাজিম উদ্দিন, সহসভাপতি সাইদুল ইসলাম, ইউনিয়নের টিভি ইউনিটের প্রধান গাজী টিভির জ্যেষ্ঠ রিপোর্টার তৌহিদুল আলম, দৈনিক আমাদের সময়ের ব্যুরো প্রধান হামিদ উল্লাহ প্রমুখ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সিইউজের সহসভাপতি স ম ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির সভাপতি খোরশেদুল আলম, ডেইলি স্টারের ব্যুরো প্রধান শিমুল নজরুল, বিএফইউজের নির্বাহী সদস্য আজহার মাহমুদ, সিইউজের সাবেক প্রচার সম্পাদক ইফতেখার উদ্দিন প্রমুখ।

এর আগে ১৯ আগস্ট একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ‘চট্টগ্রামে অটোরিকশা আটক ঘিরে ট্রাফিক পুলিশের টাকার খেলা’ শিরোনামে প্রতিবেদন দেখানো হয়। এরপর চট্টগ্রাম নগর পুলিশের পক্ষ থেকে ওই চ্যানেলে প্রতিবাদপত্র পাঠানো হয়। প্রতিবাদপত্র সই করেছেন নগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ।

প্রতিবাদপত্রের শেষ দিকে বলা হয়েছে, এই বাহিনীর কোনো কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ করা বেআইনি এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের শামিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবাদপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অনেক সংবাদকর্মী এটি শেয়ার করে নিন্দা জানিয়েছেন।

তবে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মাহমুদা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, নিয়ম মেনে একটি প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এতে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া হয়নি।