হবিগঞ্জে গভীর রাতে চার গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে
হবিগঞ্জে গভীর রাতে চার গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে

গভীর রাতে টর্চলাইটের আলোয় চার গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় গভীর রাতে টর্চলাইটের আলোয় চার গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে। এতে নারী–পুরুষসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার বনদক্ষিণ গ্রামের এক যুবককে মাদক সেবনের অভিযোগে পাশের চরহামুয়া গ্রামের কয়েকজন লোক আটকে রাখেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বনদক্ষিণ ও সুলতানশী গ্রামের লোকজন একদিকে এবং চরহামুয়া ও বনগাঁও গ্রামের লোকজন অন্যদিকে জড়ো হন। প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় ও একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অন্ধকারে টর্চলাইটের আলোয় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চার গ্রামের লোকজন একে অপরের ওপর হামলা চালান। চারদিকে চিৎকার–চেঁচামেচি ও দৌড়াদৌড়িতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন।

খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনটি  কাঁদানে গ্যাসের শেল ও চারটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত প্রায় ২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন আজ সোমবার সকালে বলেন, চার গ্রামের লোকজনের মধ্যে রাতের অন্ধকারে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।