
পাবনা–৫ (সদর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার হিমাইতপুর ইউনিয়নের বুদের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রায় অর্ধশত নারী কর্মী বুদের হাট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে যান। একই সময় বিএনপির কর্মীরাও সেখানে প্রচারণায় অংশ নেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা–কাটাকাটি হয়, যা পরে হট্টগোলে রূপ নেয় এবং এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
আসনটির জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হোসাইনের অভিযোগ, তাঁদের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাঁদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করেন। এমনকি তাঁদের গায়ে হাত তোলা হয়। এ সময় নারী কর্মীদের রক্ষায় এগিয়ে এলে দলের দায়িত্বশীল কয়েকজন নারীও মারধরের শিকার হন।
তবে বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নির্বাচন সমন্বয়কারী ও জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহজ–সরল গৃহবধূদের কাছ থেকে কৌশলে ভোটার আইডি নম্বর ও মোবাইল বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছিলেন। ভোটের বিনিময়ে নানা প্রলোভন দেখানোয় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
জহুরুল ইসলাম আরও বলেন, স্থানীয় লোকজন তাঁদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জামায়াতের কর্মীরা চিৎকার–চেঁচামেচি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেন। পরে জামায়াত প্রার্থীসহ সশস্ত্র ক্যাডারদের ডেকে এনে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। বিএনপির নেতা–কর্মীরা ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।