টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জোয়াহেরুল ইসলামের মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পালিয়ে ভারতে চলে যান জোয়াহেরুল ইসলাম। পারিবারিক সূত্র জানায়, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন জোয়াহেরুল। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার দমদম এলাকার ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টারে তাঁকে ভর্তি করা হয়। এক সপ্তাহের বেশি সময় তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ ছয় দিন তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাল্টি অর্গান ফেইলিওরের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
জোয়াহেরুলের মৃত্যুর সময় হাসপাতালে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে। স্ত্রী মেডিক্যাল ভিসায় কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে সম্প্রতি কলকাতায় যান মেয়ে জাকিয়া ইসলাম।
প্রবীণ আইনজীবী জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়ে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি ‘ভিপি জোয়াহের’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়ি সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামে। পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রয়াত এই নেতার মরদেহ দেশে এনে নিজ গ্রামে দাফন করতে চায় পরিবার। এ জন্য উভয় দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
জোয়াহেরুলের ভাই আতোয়ার রহমান উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমার ভাইয়ের মরদেহ আমাদের গ্রামে আনা হোক। সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’