টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে সংসদীয় সীমানা পুনর্বিন্যাস বাতিলের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা
টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে সংসদীয় সীমানা পুনর্বিন্যাস বাতিলের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা

পাবনার দুটি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বহালের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পাবনা–১ ও পাবনা–২ আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে পাবনার বেড়া উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় ঢাকা–পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।

সকাল থেকেই বেড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে লোকজন সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হন। এ সময় টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে তাঁরা সীমানা পুনর্বিন্যাস বাতিলের দাবি জানান। তাঁদের দাবি, বেড়া উপজেলাকে পৃথকভাবে সুজানগর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হলেও এই এলাকার মানুষ ব্যবসা–বাণিজ্য ও নানা কারণে সাঁথিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিক্ষোভ চলাকালে বেড়া বাজারের দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ ছিল।

মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন

সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস আলী, বেড়া পৌর বিএনপির সভাপতি ফজলুর রহমান ফকির, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাজেদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আকশেদ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইন উদ্দিন খাজা প্রমুখ।

বক্তারা জানান, স্বাধীনতার পর থেকে পাবনা–১ আসনে সাঁথিয়া উপজেলা ও বেড়া পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়ন ছিল। পাবনা–২ আসনে ছিল বেড়ার অন্য পাঁচটি ইউনিয়ন ও সুজানগর। কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী পাবনা–১ আসনে শুধু সাঁথিয়া এবং পাবনা–২ আসনে বেড়া ও সুজানগরকে একীভূত করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেড়ার সাধারণ মানুষ।

মহাসড়ক অবরোধ করে সমাবেশে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা

স্থানীয় লোকজনের দাবি, ভৌগোলিকভাবে বেড়া পৌরসভা ও এর পাশের চারটি ইউনিয়ন সাঁথিয়ার কাছাকাছি। সাঁথিয়া উপজেলা সদর থেকে বেড়া সদরের দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার, যেখানে সুজানগরের সঙ্গে দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। ফলে সীমানা পুনর্বিন্যাসকে তাঁরা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন। এ ছাড়া পাবনা–১ আসন হিসেবে তালিকা করা সাঁথিয়া উপজেলার মোট ভোটারের চেয়ে পাবনা–২ আসন হিসেবে তালিকা করা সুজানগর ও বেড়া উপজেলার মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলিউর রহমান বলেন, সমাবেশ চলাকালে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। সেখানে কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ শেষ হয়েছে।