দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় একটি মসজিদের সংস্কারকাজে অনুদান দিতে গিয়ে বক্তব্য দেন নিপুণ রায় চৌধুরী। রোববার দুপুরে
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় একটি মসজিদের সংস্কারকাজে অনুদান দিতে গিয়ে বক্তব্য দেন নিপুণ রায় চৌধুরী। রোববার দুপুরে

পরিবারের দিক থেকে আমার রাজকপাল, ৫০২ ভরি স্বর্ণ প্রসঙ্গে বললেন নিপুণ রায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া নিপুণ রায় চৌধুরীর দাখিল করা হলফনামায় ৫০২ ভরি স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়নার তথ্য উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে আজ রোববার দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিপুণ রায় বলেন, ‘আমার নিজ পরিবার ও শ্বশুরবাড়ি—এই দুই পরিবার ভগবানের দান। জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে—এগুলো তো ভগবানের দান। সেই দিক থেকে আমি রাজকপালী।’

ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বরাদ্দ বাজেট থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় বায়তুন নূর জামে মসজিদের সংস্কারকাজের অনুদান দিতে এসে তিনি এ কথা বলেন। নিপুণ রায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ছেলে অমিতাভ রায়ের স্ত্রী এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

৫০২ ভরি স্বর্ণালংকার প্রসঙ্গে নিপুণ রায় বলেন, ‘আমার বিয়ের আগে-পরে এবং পরবর্তী সময়ে পিতৃকুল-মাতৃকুল থেকে, আমার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পেয়েছি, সেটা আমি আমার সম্পদ বিবরণীতে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছি। এটা নতুন কোনো ঘোষণা না। এটা ২০২৪ সালের জুন মাসে আমি যে ইনকাম ট্যাক্স প্রদান করেছিলাম, সেখানে এটা ঘোষণা করা আছে। অন্যান্য ধাতুসহ আমি দেড় লাখ টাকা দরে হিসাব করে এর বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকা ঘোষণা করেছি। আমি এটা সততার সঙ্গে ঘোষণা করেছি।’

নিপুণ রায় আরও বলেন, ‘আমার একটি ফ্ল্যাট আছে, সেটি আমি ঘোষণা করেছি। আমার দুটি গাড়ি আছে, সেটি আমি ঘোষণা করেছি। আমি যখন ঢাকা ব্যাংকে চাকরি করতাম, তখন আমি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আমার প্রিমিও গাড়িটি কিনেছিলাম। পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ লোন পরিশোধ করে দায়মুক্ত হয়েছি। পরে আরেকটি গাড়ি কিনেছি। আমার কার লোন আছে ৫০ লাখ। এ ছাড়া আমার পারসোনাল লোন আছে ২০ লাখ টাকা। এই টাকা সিটি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি। আমি সেটাও ঘোষণা করেছি।’

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আমরা সততার সঙ্গে রাজনীতি করি। আমি ওই পরিবারের সন্তান, যে পরিবারে আমার বাবা যখন এরশাদের আমলে মন্ত্রী ছিলেন, তখন অনেক মন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে কারাগারে বন্দী ছিলেন। কিন্তু আমার বাবার নামে এক টাকার দুর্নীতিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর সততার পুরস্কার হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিতাই রায় চৌধুরীকে জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করান এবং ২০০১ সালে মনোনয়ন দেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বাবা নির্বাচন করেছিলেন। সর্বশেষ দেশনায়ক তারেক রহমান সততার পুরস্কার হিসেবে তাঁকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন দেন। বিজয়ের মাধ্যমে তাঁকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন।’

নিপুণ রায় আরও বলেন, ‘আমার শ্বশুরবাড়ির কথা যদি বলি, আমার শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তাঁর জীবনযাত্রার মান সবকিছু সম্পর্কে আপনারা অবগত। আগামী দিনে আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়ে রাজনীতির ময়দানে থাকতে চাই। আমি আপনাদের অগ্নিকন্যা হতে পেরেছি আমার কর্মের মাধ্যমে। আমি সততার মাধ্যমে আমার দায়িত্ব পালন করব। অনেকে সাহস করে বলতে পারে না, ঘোষণা দিতে পারে না। আমি সাহস করে ঘোষণা দিয়েছি আরও দুই-তিন বছর আগে। এটাই হলো আমার সততা।’