সিরাজগঞ্জ জেলার মানচিত্র
সিরাজগঞ্জ জেলার মানচিত্র

স্বর্ণালংকার হারানোর অভিযোগ

‘কবিরাজের কথায়’ এক শিশুর পরিবারকে তলব করলেন ইউপি চেয়ারম্যান

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্বর্ণালংকার হারানোর অভিযোগ সমাধানে কবিরাজের কথায় এক শিশুর পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) হাজির হতে নোটিশ দিয়েছেন চেয়ারম্যান। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে গ্রাম আদালত থেকে অভিযোগটি খারিজ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাসের শুরুতে জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর বাজারের পল্লিচিকিৎসক দুলাল হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন লাহিড়ীপাড়া এলাকায় ঘুরতে গিয়ে তাঁর গলায় থাকা সাড়ে নয় আনার সোনার চেইন হারিয়ে ফেলেন। তবে কোথায় হারিয়ে গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছিলেন না। এমন অবস্থায় পার্শ্ববর্তী চর বড়ধন গ্রামের আসলাম হোসেন নামের এক কবিরাজের শরণাপন্ন হন তাঁরা। কবিরাজ কাগজে লেখা অনেক মানুষের নামের ভেতর থেকে লাহিড়ীপাড়ার এক কাঠমিস্ত্রির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুসন্তানের (১০) নাম নির্ধারণ করে বলেন, এই ছেলেই গয়না নিয়েছে। এর পর থেকে প্রভাবশালী দুলাল হোসেন ওই শিশুর বাড়িতে গিয়ে গয়না ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টিসহ হয়রানি করতে থাকেন।

ওই কাঠমিস্ত্রি অভিযোগ করে জানান, কবিরাজ আসলামের কথামতো তাঁর শিশুসন্তানকে চোর আখ্যায়িত করে দুলাল হোসেন তাঁদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাঁর ছেলে কোনো স্বর্ণালংকার পায়নি, এমনটি বলার পরও অভিযোগকারীরা শুনছেন না। এ নিয়ে তাঁর ছেলে চরম ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোপাল চন্দ্র ঘোষ পরিষদের গ্রাম আদালতের পক্ষ থেকে ৪ মে ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হতে সমন নোটিশ করেছেন। ওই কাঠমিস্ত্রির পরিবার হারানো সোনার বিষয়ে কিছু জানে না, তাই তাঁরা হাজির হননি।

বিষয়টি নিয়ে পল্লিচিকিৎসক দুলাল হোসেন বলেন, ‘কবিরাজ আসলাম হোসেন নির্ধারণ করেছেন যে কাঠমিস্ত্রির ছেলে কুড়িয়ে পেয়েছে সোনার চেইনটি। এর ওপর ভিত্তি করে আমরা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। চেয়ারম্যান সাহেব তাঁদের পরিষদে হাজির হতে নোটিশ করেছেন, কিন্তু তাঁরা হাজির হননি।’ কবিরাজের এই শনাক্তকরণের পন্থায় কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কি না, পল্লিচিকিৎসক দুলাল হোসেনের কাছে এমনটি জানতে চাইলে, তিনি এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে নিজেকে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করেন।

এ বিষয়ে কবিরাজ আসলাম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে ঘটনাটিকে আমলে নিতে চাইনি। এ নিয়ে এখন বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। তাই আমি নিজেও বিব্রত।’

লাহিড়ী মোহনপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘আমরা আসলে কবিরাজের কথায় বিশ্বাসী নই। দুলাল হোসেন গ্রাম আদালতে অভিযোগ করায় শিশুটিকে না ডেকে তার বাবাকে হাজির হতে নোটিশ করেছি। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। উভয় পক্ষের কথা জেনে শান্তির লক্ষ্যে মীমাংসা করতে মূলত আমরা নোটিশটা করেছি।’

এমন নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কবিরাজের কথার ওপর ভিত্তি করে পরিষদ থেকে নোটিশ দেওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি জানার পর গ্রাম আদালতের নথি থেকে অভিযোগ ও মামলাটি খারিজ করে দিতে বলা হয়েছে।