বিশ্বজিৎ দেউড়ী
বিশ্বজিৎ দেউড়ী

খুলনায় তালাবদ্ধ ঘরের ভেতরে পাওয়া গেল কাঁথা দিয়ে মোড়ানো তরুণের লাশ

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একটি ভাড়া বাসা থেকে এক তরুণের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাইকগাছা পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডের একটি বাড়ির নিচতলার কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত তরুণের নাম বিশ্বজিৎ দেউড়ী (২৫)। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেতরা গ্রামের হিরালাল দেউড়ীর ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।

এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে ওই তরুণের সহকর্মী রুমমেট অন্তর সরকারের খোঁজ নেই। তিনি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ফাঁসিয়াতলা গ্রামের লিটন সরকারের ছেলে।

ঘটনার পর থেকে অন্তরকে এলাকায় আর দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিক রামপ্রসাদ মণ্ডল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে বিশ্বজিৎ ও অন্তর হাসপাতাল রোড এলাকার ওই বাসার একটি ঘর ভাড়া নেন। গত সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে স্থানীয় একটি দোকানে তাঁদের একসঙ্গে খাবার খেতে দেখা যায়। এর পর থেকে তাঁদের আর দেখা যায়নি।

গতকাল বিশ্বজিৎ ও অন্তরের মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে সন্ধ্যার দিকে ভাড়া বাসাটিতে যান তাঁদের সহকর্মী নয়ন রায়। সেখানে গিয়ে তিনি কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ পান এবং দরজার সামনে রক্তমাখা একটি ছুরি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সন্দেহ হলে পাইকগাছা থানায় খবর দেন নয়ন।

একই কক্ষে বসবাসকারী অন্তর সরকারের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও পাওয়া যায়নি।
জুলফিকার আলী, ওসি, পাইকগাছা থানা

খবর পেয়ে পুলিশ তালা ভেঙে কক্ষটিতে যায়। ভেতরে কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে তোশকে ঢাকা অবস্থায় বিশ্বজিৎ দেউড়ীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে অন্তরকে এলাকায় আর দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিক রামপ্রসাদ মণ্ডল।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, একই কক্ষে বসবাসকারী অন্তর সরকারের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও পাওয়া যায়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের পাশাপাশি অন্তরকে খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।