
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর হাম–রুবেলার টিকা দেওয়ার কর্মসূচি থাকলেও বিগত সরকার এ বিষয়ে অবহেলা করেছে। ২০২০ সালে শিশুদের জন্য হাম–রুবেলার টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার সেটা না করে সারা দেশে শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে হাম–রুবেলার জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সারা দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় একযোগে আজ এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মন্ত্রী নবাবগঞ্জ থেকে এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক বছর বিলম্ব হওয়ায় হাম–রুবেলায় কিছু শিশু মারা গেছে। এটা গত সরকারের ভুল ছিল। তারা চার বছর পরেও এ টিকা দেয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্বাস্থ্য খাতে শিশুদের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময় ইউনিসেফসহ কয়েকটি সংস্থার সহায়তায় এই ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। সরকার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে প্রথমে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শিশুদের জন্য এই ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করে। ১২ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি, ময়মনসিংহ ও বরিশালে পরবর্তী ধাপের টিকা দেওয়া হবে। আগামী ৩ মে সারা দেশে এ টিকা সরবরাহ করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাম–রুবেলা যাতে বাংলাদেশে কোনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সজাগ আছে। যেখানেই শিশুরা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা, সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এরপর তিনি বক্সনগর ইউনিয়নের বর্ধনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে টিকাদানকেন্দ্র ঘুরে দেখে সবাইকে নির্ভয়ে শিশুদের জন্য হামের টিকা গ্রহণের কথা বলেন। তিনি বলেন, সারা দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজ করতে সরকার কাজ করছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত সবাইকে আরও আন্তরিক হয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।