
লালমনিরহাটে বিএনপির ডাকা হরতাল চলাকালে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর গতকাল বুধবার বিকেলে সদর থানায় হওয়া মামলায় ৮১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক ও সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার মামলার তথ্য নিশ্চিত করেন। ওসি ওমর ফারুক বলেন, মামলায় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি আসাদুল হাবিব ওরফে দুলুকে প্ররোচনাদানকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি ১ নম্বর আসামি। মামলার তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে জোর চেষ্টা চলছে।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম (৪৮) লালমনিরহাট সদর উপজেলা লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাল্যবন্ধু পরিচয়ে মামলাটি করেছেন সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীরচওড়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম খান (৪৫)। তিনি হারাটি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার জাহাঙ্গীর আলম তাঁর বাল্যবন্ধু। সে কারণে তিনি জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের সম্মতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন, যাতে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত হয়।
উল্লেখ্য, গত রোববার বিএনপির ডাকা হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্র নগর বাজার এলাকায় বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা জাহাঙ্গীর আলমসহ চার থেকে পাঁচজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলম রোববার দুপুরে মৃত্যুবরণ করেন।
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ড হচ্ছে একটি জঘন্য অপরাধ। এ বিবেচনায় জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যায় সরাসরি জড়িত ও যাঁরা হত্যার প্ররোচনা বা ইন্ধন জুগিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
জেলা বিএনপির শীর্ষ ও দায়িত্বশীল কারও মুঠোফোন নম্বর খোলা না পাওয়ায় মামলার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিহত জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী আফরোজা বেগম বলেন, তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় আমিনুল ইসলামকে মামলার বাদী হতে সম্মতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি চাই। ফাঁসি চাই।’