
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দর ভবনে বিএনপিপন্থী শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
শ্রমিক–কর্মচারীদের বিক্ষোভের পর বিকেলের দিকে বন্দর ভবনের ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
টার্মিনালটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) আওতায় জিটুজি ভিত্তিতে (সরকারি পর্যায়ে) ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী সপ্তাহে এ–সংক্রান্ত কনসেশন চুক্তির মাধ্যমে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে টার্মিনালটি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে চুক্তির কাজ গুছিয়ে আনার খবর পাওয়ার পর আজ দুপুর প্রায় ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও সাবেক চট্টগ্রাম পোর্ট সিবিএর নেতা–কর্মীরা বন্দর ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বন্দরের একাংশ কর্মচারীরাও এতে অংশ নেন। মিছিলটি বন্দর ভবন চত্বরে ঘুরে একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। বন্দর চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা।
এর আগে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবিতে আজ সকালে নগরের আগ্রাবাদে এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন আগামী শনি ও রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হবে। শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, সরকার যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তাহলে সোমবার থেকে বন্দর কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার মতো আরও কঠোর আন্দোলনে তারা যাবেন।
এ সময় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম পোর্ট সিবিএর সাবেক প্রকাশনা সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিরোধিতা সত্ত্বেও বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকার লাভজনক এনসিটি টার্মিনাল ইজারা দিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন বলেন, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করা হবে। রোববার একইভাবে ৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
ইব্রাহিম খোকন আরও বলেন, সরকার যদি এনসিটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল না করে, তাহলে রোববার বিকেলের পর থেকে বন্দর অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
২০০৭ সালে নির্মাণ হওয়া এই টার্মিনাল নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। গত বছরের ৭ জুলাই থেকে টার্মিনালটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা এই টার্মিনালে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী কনটেইনার জাহাজ থেকে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে আমদানি–রপ্তানি কনটেইনার ওঠানো–নামানো করা হয়।