কুমিল্লার ধর্মসাগর পাড়ে স্ত্রীসহ ঘুরতে যাওয়া পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন
কুমিল্লার ধর্মসাগর পাড়ে স্ত্রীসহ ঘুরতে যাওয়া পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন

কুমিল্লায় ধর্মসাগরপাড়ে স্ত্রীসহ ঘুরতে যাওয়া পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত, গ্রেপ্তার ২

কুমিল্লা নগরের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ধর্মসাগরপাড়ে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে বখাটেদের হামলার শিকার হয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবল। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ী (মুন্সেফ কোয়ার্টার) এলাকার বাসিন্দা মো. রিফাত (১৯) এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ভুবনঘর এলাকার বাসিন্দা সিয়াম (২০)।

জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত নারী কনস্টেবল জাকিয়া সুলতানা তাঁর স্বামী চাঁদপুর জেলা পুলিশের কনস্টেবল কাজী আবদুল্লাহ মো. জোবায়েরকে নিয়ে ধর্মসাগরপাড়ে বেড়াতে যান। এ সময় সেখানে অবস্থানরত তিন বখাটে জাকিয়া সুলতানাকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করে। এর প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্য জোবায়েরের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে জোবায়েরকে আঘাত করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। দিনের বেলায় জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এ ধরনের হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নজরে এলে তিনি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় ডিবি ও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা–পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর টানা অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা ওই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম শাহ্ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং বা বখাটেদের কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। পুলিশ এসব বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।