
রাত তখন প্রায় ১১টা। হঠাৎ অজ্ঞাত এক নম্বর থেকে কল আসে মরিয়ম আক্তারের মুঠোফোনে। রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি বলে ওঠেন, ‘আপনার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আপনার স্বামীকে মেরে লাশ গুম করে ফেলব।’
মরিয়ম আক্তার কক্সবাজারের টেকনাফের সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের (২৪) স্ত্রী। সাদ্দাম ওই এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। গত রোববার রাত ৯টার দিকে তিনি অপহরণের শিকার হন। এরপর রাত ১১টার দিকে তাঁর স্ত্রীকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার রাত ৯টার দিকে এক ব্যক্তি সাদ্দামকে কল দিয়ে অটোরিকশায় ভাড়া নিয়ে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়ায় যেতে বলেন। এরপর সাদ্দাম অটোরিকশায় ওই ব্যক্তিকে নিয়ে বাহারছড়ার দিকে যান। সেখানে গিয়েই তিনি নিখোঁজ হন। এর পর থেকেই তাঁর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
সাদ্দামের স্ত্রী মরিয়ম আক্তার বলেন, ওই দিনের পর গতকাল সোমবার সকালেও ওই নম্বর থেকে আবার কল করা হয়। ওই সময়ও একই হুমকি দেওয়া হয়। তিনি তাঁর স্বামীকে ফেরত চান।
সাদ্দামের মা হাসিনা বেগম বলেন, অপহরণকারীরা বারবার ফোন করে টাকা প্রস্তুত রাখার কথা বলছে। টাকার জন্য তাঁর ছেলেকে মারধর করা হচ্ছে। ছেলের চিৎকারের আওয়াজ মুঠোফোনে তাঁদের শোনানো হচ্ছে।
জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাদ্দামকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি তাঁর জানা নেই।