ইটভাটায় কাজের এক ফাঁকে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন দুই শ্রমিক। দুজনের শরীরই ছিল ঘামে ভেজা। হঠাৎ একজন পরিত্যক্ত একটি ঘরের টিনের বেড়ায় হেলান দেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে অপর শ্রমিকও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এরপর দুজনেরই মৃত্যু হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সুতারগোপ্টা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শ্রমিক হলেন সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরভূতা গ্রামের মো. সেলিমের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) ও একই এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৩৫)। তাঁরা ওই এলাকার ‘এনবিসি ইটভাটার’ শ্রমিক ছিলেন।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইটভাটার শ্রমিক জাকির হোসেন বলেন, ভাটার পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘর সম্প্রতি বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে বিদ্যুতায়িত হয়ে থাকতে পারে। কাজের ফাঁকে রুবেল ও আলাউদ্দিন ঘরটির উল্টো পাশে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে তাঁদের একজন অসাবধানতাবশত টিনের ঘরের বেড়ায় হেলান দেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে অপরজনও একইভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
এ ঘটনার পর দুজনকেই উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই শ্রমিককে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, তাঁরা এ বিষয়ে জেনেছেন। দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের অভিযোগে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।