বাংলাদেশি ঝুমা আক্তারের পাশের চীনা যুবক গাও ওয়েইয়ান। গতকাল বিকেলে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার কিষ্টপুর মোড়লপাড়ায়
বাংলাদেশি ঝুমা আক্তারের পাশের চীনা যুবক গাও ওয়েইয়ান। গতকাল বিকেলে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার কিষ্টপুর মোড়লপাড়ায়

চ্যাটিং অ্যাপে বাংলাদেশি তরুণীর সঙ্গে পরিচয়, প্রেমের টানে চীনের যুবক কিশোরগঞ্জে

চ্যাটিং অ্যাপে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। সেই সম্পর্কের টানে সুদূর চীন থেকে কিশোরগঞ্জের ইটনায় এসেছেন এক যুবক। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে দেখতে উপজেলার চৌগাংগা ইউনিয়নের কিষ্টপুর মোড়লপাড়ায় ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

চীনের ওই যুবকের নাম গাও ওয়েইয়ান (২৫)। তিনি চীনের হেনান প্রদেশের শিনশিয়াং শহরের মুয়ে জেলার বাসিন্দা। সেখানে সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে একটি চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে ইটনা উপজেলার ঝুমা আক্তারের (১৯) সঙ্গে গাও ওয়েইয়ানের পরিচয় হয়। প্রথমে সাধারণ কথাবার্তা হলেও ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৬ মে রাতে বাংলাদেশে আসেন গাও। ঝুমা আক্তার মোড়লপাড়ার মো. নজরুল ইসলাম ও পাখি আক্তার দম্পতির মেয়ে।

গতকাল সকালে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন। গাও ওয়েইয়ান প্রথম আলোকে বলেন, অনেক দিন ধরেই তাঁর বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা ছিল। শুধু ফোনে কথা বলে তাঁর ভালো লাগছিল না। তিনি ঝুমাকে ভালোবাসেন বলেই এত দূর থেকে এসেছেন। বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ।

ঘটনাটি শুনে ঝুমা আক্তারের বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা চলছে। কেউ মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, আবার কেউ এটিকে সম্ভাবনাময় ঘটনা হিসেবেও দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, আবেগের পাশাপাশি আইনগত বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা তৈরি না হয়।

ঝুমার চাচা শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিবার আলোচনা করছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য উপজেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী চীনের যুবক স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রয়োজন হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।