নিহত শিশু জান্নাত আক্তার
নিহত শিশু জান্নাত আক্তার

নেত্রকোনায় নিখোঁজের দুই দিন পর ধানখেতে পাওয়া গেল শিশুর খণ্ডিত লাশ

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নিখোঁজের দুই দিন পর ধানখেতের আল থেকে এক মেয়ে শিশুর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে কৈলাটি ইউনিয়নের হুগলি গ্রাম থেকে স্থানীয় থানার পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

নিহত শিশুটির নাম জান্নাত আক্তার (৫)। সে হুগলি গ্রামের আসাদ মিয়ার মেয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে জান্নাত আক্তার বাড়ির উঠানেই অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। সেখান থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। তার পরনে ছিল লাল রঙের জামা, গলায় গামছা। পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং, থানায় সাধারণ ডায়েরি করাসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না তাকে।

আজ সকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি আসাদ মিয়ার বাড়ির পেছনে প্রায় ৩০০ গজ দূরে ধানখেতের আলে একটি শিশুর খণ্ডিত লাশ দেখতে পান। পরে পরিবারের লোকজন লাশটি জান্নাতের বলে শনাক্ত করে। খবর পেয়ে পুলিশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটির দেহ ও একটি পা উদ্ধার করে। সকাল ১০টার দিকে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শিশুটির আত্মীয় পাশের সনুড়া গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আমিনুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘কীভাবে এমন হলো কিছুই বুঝতে পারছি না। বাচ্চাটির শুধু ডান পায়ের নিচের অংশ ও মাথার অংশটুকু গামছা প্যাঁচানো আছে। আর কিছু নেই। আমার চাচাতো ছোট ভাই আসাদ মিয়ার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা আছে বলে জানা নেই। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। মনে হয় শিয়াল-কুকুরে কামড়ে দেহ থেকে হাত-পা–শরীর খেয়ে ফেলেছে। অবশিষ্ট অংশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা করা হবে।’