আদালত
আদালত

চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে ‘স্পাই ক্যামেরা’: গ্রেপ্তার ইন্টার্ন চিকিৎসক পাঁচ দিনের রিমান্ডে

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে ‘স্পাই ক্যামেরা’ লাগানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবিরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে গতকাল সোমবার রাতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ রায়হান কবিরকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চায়। শুনানি শেষে সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খান পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাঁকে আদালতে আনা হলে টাঙ্গাইল মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা আদালত চত্বরে তাঁর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের পরিচালক মো. আবদুল কুদ্দুস গতকাল সোমবার রাতে রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রোববার হাসপাতালের পরিচালকের কাছে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক লিখিত অভিযোগে জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-১–এর ৯০৭ নম্বর কক্ষে তিনি কর্মরত ছিলেন। ওই কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত ওয়াশরুমে গিয়ে তিনি একটি লুকানো স্পাই কলম ক্যামেরা দেখতে পান। ক্যামেরাটি নিয়ে তিনি সেখান থেকে বের হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ক্যামেরাটি ফেরত চান। দিতে অস্বীকার করলে ধস্তাধস্তি করে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন রায়হান। এ সময় ওই নারী হাতে আঘাত পান। পরে তিনি নিজেকে বাঁচিয়ে পাশের ইউনিটে চলে যান।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক ওয়াশরুম ব্যবহার করতে যাওয়ার সময় রায়হান কবির তাঁকে থামিয়ে নিজে আগে ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন। অন্য নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকেরাও ওয়াশরুম ব্যবহারের আগে রায়হান প্রায়ই আগে ওয়াশরুমে ঢুকে যেতেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা এ ঘটনার তদন্ত করে তাঁর শাস্তি দাবি করেন।

হাসপাতালের পরিচালক মো. আবদুল কুদ্দুস এক অফিস আদেশে রায়হান কবিরের ইন্টার্নশিপ সাময়িক স্থগিত করেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু হানিফকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়। সোমবার রায়হান কবির তদন্ত কমিটির কাছে সাক্ষ্য দিতে মেডিক্যালে এলে খবর পেয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাঁর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়।