ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিশ্বরোড গোল চত্বরসংলগ্ন সরু সড়ক ও গর্তের কারণে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকেল চারটা পর্যন্তও স্বাভাবিক হয়নি যান চলাচল। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী ও চালক।
আজ বিকেল চারটার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, সরাইল উপজেলার শান্তিনগর থেকে বিশ্বরোড মোড় ও কুট্টাপাড়া হয়ে ইসলামাবাদ পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং বিশ্বরোড মোড় থেকে দক্ষিণে সদর উপজেলার সুহিলপুর পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট আছে। বিশ্বরোড গোল চত্বরের চারদিকের মধ্যে বর্তমানে শুধু ঢাকা থেকে সিলেটগামী নতুন একটি লেন চালু আছে। সিলেট থেকে ঢাকা ও কুমিল্লাগামী পুরোনো দুটি লেন বন্ধ থাকায় যানবাহনের চাপ একটি পথেই পড়ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে গোল চত্বরের দক্ষিণ পাশের কাঁচা অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে এখনো পানি জমে আছে। ফলে ঢাকা ও সিলেট থেকে কুমিল্লা-চট্টগ্রামগামী এবং বিপরীত দিক থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি বারবার গর্তে আটকে যাচ্ছে। আবার তিন দিক থেকে আসা ভারী যানবাহন গর্তের সামনে এসে থেমে ধীরগতিতে পার হওয়ায় যানজট আরও তীব্র হচ্ছে।
আজ দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্বরোড গোল চত্বরের তিন-চতুর্থাংশজুড়ে এখনো নির্মাণকাজ চলছে। সরু সড়ক ও গর্ত পেরোতে গিয়ে বিশেষ করে পণ্যবাহী যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গোল চত্বরের তিন পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিনটি অবৈধ স্ট্যান্ডও যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। সেখানে ফুটপাতও নেই।
চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাকের চালক আপেল মিয়া বেলা আড়াইটার দিকে ছিলেন কুট্টাপাড়া এলাকায়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ছিলেন তিনি। এই পর্যন্ত আসতে সাড়ে তিন ঘণ্টা লেগেছে। কয়েক বছর ধরে এ এলাকায় এলেই চালকদের অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে।
ভোগান্তির কথা স্বীকার করে সরাইল-খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তাহের দেওয়ান বলেন, অনেক চালক ট্রাফিক আইনও মানছেন না। মামলা দেওয়ার পরও সবাই আগে যেতে চান। এতে যানজট আরও বাড়ছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।
ভারতের ট্রানজিট সুবিধার অংশ হিসেবে আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, প্রায় ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ ৮ বছর ধরে ধীরগতিতে চলছে। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিভিন্ন সময়ে কাজ বন্ধও ছিল। মহাসড়কের এক পাশের কাজ প্রায় শেষ হলেও বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানাখন্দ থাকায় সড়কটি এখনো পুরোপুরি যান চলাচলের উপযোগী হয়নি।