শাহ সুলতানের মাজার জিয়ারত শেষে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শিবগঞ্জের ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায়
শাহ সুলতানের মাজার জিয়ারত শেষে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শিবগঞ্জের ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায়

বগুড়া-২ আসন

প্রথম দিনে মাঠে নেই মান্নার সমর্থকেরা, ধানের শীষে প্রচারণা শুরু শাহে আলমের

শিবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে মাঠে নেই নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার কর্মী-সমর্থকেরা। আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী এলাকার কোথাও কেটলি প্রতীকের প্রচারণাও দেখা যায়নি।

এদিকে আজ সকালে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.)–এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম। তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে শাহে আলম মহাস্থান মাজারে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং জনগণের কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত করেন। পরে তিনি মহাস্থান বন্দরে জনসাধারণের মধ্যে লিফলেট বিতরণ ও মতবিনিময় করেন।

নির্বাচনী প্রচারণা শুরুকালে মীর শাহে আলম এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী করায় মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে শিবগঞ্জবাসীর অধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক উপজেলা গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবেন।

পরে শাহে আলম মহাস্থানগড় এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে ভোট চেয়ে মতবিনিময় করেন। ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মীর শাহে আলম বলেন, শিবগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজ সব সময় গণতন্ত্র, ন্যায্যতা ও মানুষের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ধানের শীষ মানেই জনগণের মুক্তি, ধানের শীষ মানেই দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসার নিরাপত্তা। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ করা এবং একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।

এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনিও ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামাল উদ্দিন (হাতপাখা), গণ অধিকার পরিষদের সেলিম সরকার (ট্রাক), জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম (সিঁড়ি) আসনটিতে প্রার্থী হয়েছেন।

নাগরিক ঐক্যের প্রচারণা শুরু না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দলের বগুড়া জেলা শাখার সমন্বয়ক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাসহ নানা বিষয় নিয়ে মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। মাহমুদুর রহমানের পক্ষ থেকে নির্বাচনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন নাগরিক ঐক্যের বগুড়া জেলা শাখার সদস্য মশিউর রহমান। নির্বাচনী প্রস্তুতি চূড়ান্ত।

সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রথম দিনে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারিনি। কাল শুক্রবার থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং ছাড়াও কর্মী–সমর্থকেরা মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে কেটলি প্রতীকে ভোট চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু করবেন।’