
সাত মাস আগে মরণ দাসের ঘর আলো করে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক ছেলে। জন্মের পরই ধরা পড়ে কিডনি জটিলতা। তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে জানতে পারেন ছেলে অভিষেক দাসের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ ছেলেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সারা রাত ছেলের কাছে থেকে ভোরে মিরসরাইয়ের একটি মাছের আড়তে চলে যান মরণ দাস, যা আয় তা দিয়েই চলে সংসার। জীবিকার তাগিদে কাজে আসতে হলেও সারাক্ষণ মনজুড়ে থাকে সন্তানের ভাবনা। হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর মরণ দাসের মতো বহু অভিভাবককেই এমন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
দেড় বছর আগে বিয়ে করেন মরণ দাস। সাত মাস আগে তাঁর ঘর আলো করে আসে ফুটফুটে এক ছেলে। জন্মের পর থেকেই কিডনির রোগসহ নানা জটিলতায় ভুগছিল সেই শিশু। কিডনির রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে এলে সেখানে হাম শনাক্ত হয় তার। অবস্থা গুরুতর হলে জীবন বাঁচাতে মরণ দাসের ছেলে অভিষেক দাসকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকেরা। তিন দিন ধরে সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার। হাসপাতালে ছেলেকে জীবন–মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রেখেও জীবিকার সন্ধানে কর্মস্থলে যেতে হয় মরণ দাসকে। মরণ দাস মিরসরাই উপজেলার হাইতকান্দি ইউনিয়নের বালিয়াদি এলাকার বাসিন্দা।
মরণ দাস জানান, দুই বোনের আগেই বিয়ে হয়েছে। এখন মা, স্ত্রী, সন্তান ও ছোট ভাই মিলে পাঁচজনের সংসার তাঁর। বছর দুয়েক আগে বাবা মারা গেলে পুরো সংসারের দায়িত্ব পড়ে তাঁর কাঁধে। মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজারে ছোট একটি মাছের আড়তে হিসাবরক্ষকের কাজ করেন তিনি। ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত আড়তে কাজ করে দৈনিক ৫০০ টাকা পান। সে টাকায় চলে তাঁর সংসার। ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে প্রথম কয়েক দিন কর্মস্থলে আসেননি মরণ দাস। এখন আর্থিক সংকটে পড়ে আড়তে এক বেলা কাজ করে যান।
দুই বোনের আগেই বিয়ে হয়েছে। এখন মা, স্ত্রী, সন্তান ও ছোট ভাই মিলে পাঁচজনের সংসার মরণ দাসের। বছর দুয়েক আগে বাবা মারা গেলে পুরো সংসারের দায়িত্ব পড়ে তাঁর কাঁধে। মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজারে ছোট একটি মাছের আড়তে হিসাবরক্ষকের কাজ করেন তিনি। ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত আড়তে কাজ করে দৈনিক ৫০০ টাকা পান। সে টাকায় চলে তাঁর সংসার। ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে প্রথম কয়েক দিন কর্মস্থলে আসেননি মরণ দাস। এখন আর্থিক সংকটে পড়ে আড়তে এক বেলা কাজ করে যান।
গতকাল রোববার সকাল আটটায় বড়তাকিয়া বাজার মৎস্য আড়ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাছ বেচাবিক্রির হাঁকডাক। সেখানে এক পাশের বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়তে বসে মাছ বেচাবিক্রির হিসাব লিখছিলেন তিনি। কাজে ব্যস্ত থাকলেও তাঁর চোখেমুখে ছিল চিন্তার ভাঁজ।
জানতে চাইলে মরণ দাস বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি আমার ছেলেকে দেখাশোনার জন্য স্ত্রী বৃষ্টি রানী দাস, মা অর্চনা রানী দাস ও ছোট ভাই টিটু দাস রয়েছে। আমি সারা দিন হাসপাতালে ছোটাছুটি করে রাত দুইটায় চট্টগ্রাম শহর থেকে মিরসরাইয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিই। রাত সাড়ে তিনটা–চারটার দিকে পৌঁছে আড়াতে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ভোর পাঁচটা থেকে মাছ বিক্রির কাজ শুরু করি। হিসাবপত্র শেষ করে আবার সকাল ১০টায় শহরের বাস ধরে হাসপাতালে পৌঁছাই। আর্থিক সংকটের এই সময়ে রোজগারের সামান্য টাকাটুকু বড় কাজে আসে। সন্তানকে আইসিইউতে রেখে কাজে আসতে মন চায় না। বাধ্য হয়ে কাজে আসলেও মনটা আমার ছেলের কাছেই পড়ে থাকে।’
বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়তের অংশীদার শিপ্লব দাস বলেন, ‘আইসিইউতে থাকা হামে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন মরণ দাস। আর্থিক অনটনের কারণে এমন অবস্থায়ও চট্টগ্রাম শহর থেকে আড়তে এসে এক বেলা কাজ করে যান তিনি। আমরা অংশীদার হিসেবে তাঁকে সাধ্যমতো সাহায্য করি।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মুসা প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হামে আক্রান্ত শিশু অভিষেক দাসকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশুটিকে আমি দেখে এসেছি। হামের পাশাপাশি কিডনির রোগসহ নানা জটিলতা আছে তার। শিশুটির চিকিৎসা চলছে। আমরা ভালো কিছুই আশা করছি।’
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৯ এপ্রিল থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪৭ জন ভর্তি ছিল। যার মধ্যে ২৪৪ জনই ভর্তি আছে নগরের হাসপাতালগুলোতে। জেলায় এ পর্যন্ত ১১৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হামে নিশ্চিত মৃত্যু একজনের। সন্দেহজনক হামের রোগী ১ হাজার ২২২, সুস্থ হয়ে ফিরেছে ৯৭৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৭৪ জন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৯ এপ্রিল থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪৭ জন ভর্তি ছিল, যার মধ্যে ২৪৪ জনই ভর্তি আছে নগরের হাসপাতালগুলোতে। জেলায় এ পর্যন্ত ১১৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হামে নিশ্চিত মৃত্যু একজনের। সন্দেহজনক হামের রোগী ১ হাজার ২২২, সুস্থ হয়ে ফিরেছে ৯৭৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৭৪ জন।