
নাটোরের আলোচিত রাকিব-রায়হান হত্যা মামলাসহ চারটি মামলায় বিএনপি নেতা দেওয়ান শাহীনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি আত্মসমপর্ণ করলে নাটোরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মো. শরীফ উদ্দীন এই নির্দেশ দেন।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপির সদস্য দেওয়ান শাহীন মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের আলোচিত রাকিব-রায়হান হত্যা, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের মিছিলে হামলাসহ চারটি মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু আদালতের বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে বিশেষ পুলিশি প্রহরায় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে পাঠানোর সময় শত শত বিএনপি নেতা–কর্মী জেলহাজতের সামনে তাঁর মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি সিরাজুল ইসলাম জানান, দেওয়ান শাহীনের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য অভিযোগ থাকায় আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ঘোষিত সংবিধান সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের বিজয় র্যালি উদ্যাপনের দিন সকাল ১০টায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নাটোর শহরের তেবাড়িয়া উত্তর পাড়ার চাঁদ মুন্সির ছেলে রাকিব হোসেন (২০) ও সিংড়ার গাইনপাড়ার সামছুল হকের ছেলে রায়হান আলী (২৬) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
এ ঘটনায় রাকিবের বড় ভাই মো. আনজুল বাদী হয়ে একই দিন সদর থানায় মামলা করেন। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলা করা হয়। মামলায় বলা হয়, বাদী একজন আওয়ামী লীগপন্থী। তাঁর প্রতিপক্ষে লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। পরে পুলিশ বিভিন্ন সময় বিএনপি নেতা দেওয়ান শাহীনসহ বেশ কিছু নেতা–কর্মীকে আটক করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। দেওয়ান শাহীন উচ্চ আদালত থেকে অভিযোগপত্র দাখিল হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী জামিন নিয়ে মুক্ত হন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলে দেওয়ান শাহীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এই মামলাসহ চারটি মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের দরখাস্ত করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমীন তালুকদার জানান, এই মামলার বাদী একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। নিহত যুবকেরাও রাজনীতি করতেন না। রাজনৈতিক কারণেও তাঁরা খুন হননি। অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁদেরকে খুন করে। অথচ আওয়ামী লীগের নেতারা বাদীকে দিয়ে মামলাটি দায়ের করান। সেই মামলায় পুলিশ রাজনৈতিক আক্রোশে বিএনপি নেতা–কর্মীদের আসামি করেছে। আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করেছেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা আবারও জামিনের আবেদন করবেন।