সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরায় চামড়া শিল্পনগরে কোরবানির কাঁচা চামড়া সংগ্রহের পর প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্যানারি শ্রমিকেরা। শুক্রবার দুপুরে
সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরায় চামড়া শিল্পনগরে কোরবানির কাঁচা চামড়া সংগ্রহের পর প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্যানারি শ্রমিকেরা। শুক্রবার দুপুরে

২৯ ঘণ্টায় সাভার চামড়াশিল্প নগরে চামড়া এসেছে ৫ লাখ

পবিত্র ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরায় চামড়াশিল্প নগরে ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে চামড়া আসতে শুরু করে। আজ শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত শিল্পনগরে ৫ লাখ ২ হাজার ৭৯৬টি চামড়া এসেছে।

শিল্পনগরের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের দিন রাত ১১টা পর্যন্ত ৭৯৯টি ট্রাকে করে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৪৪টি চামড়া এসেছিল। এরপর আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টায় ৮১৭টি ট্রাকে আরও ৩ লাখ ২২ হাজার ৫৫২টি চামড়া এসেছে। সব মিলিয়ে ২৯ ঘণ্টায় মোট ৫ লাখ ২ হাজার ৭৯৬টি চামড়া এসেছে।

বিভিন্ন ট্যানারির মালিক ও বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, এ বছর কমবেশি ১ কোটি পিস কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও চামড়াশিল্প নগরের বিভিন্ন ট্যানারিতে মালিক-শ্রমিকসহ ট্যানারি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততা কমতে থাকে। চামড়াভর্তি পিকআপগুলো ট্যানারির ভেতরে প্রবেশ করার পর শ্রমিকেরা চামড়া নামিয়ে নেন। এরপর চামড়া থেকে লেজ, কান ও মাথার অংশ কেটে আলাদা করে চামড়ায় লবণ মাখিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

ট্যানারি শ্রমিক মো. হান্নান বলেন, ‘চামড়ার চাপ ও ঝামেলা গতকাল গেছে। এখন চাপ কম। আমরা চামড়ার পিস হিসাবে কাজ করি। প্রতি পিস চামড়া নামানোর জন্য ১০ টাকা এবং লবণ দিতে ৫০ টাকা নিচ্ছি। এ ছাড়া পরে ভাঙতে (লবণযুক্ত চামড়া স্তূপ থেকে সরাতে) প্রতিটি ৫ টাকা ও এক ট্যানারি থেকে অন্য ট্যানারিতে নিতে ১০ টাকা করে নেওয়া হবে।’

চামড়ার ব্যবসা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত মো. মাকসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এখন কাঁচা চামড়া (লবণ ছাড়া) কাটিং করে লবণ দিয়ে স্তূপ করে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় পর চামড়ার এই স্তূপ ভেঙে ওয়েট ব্লুর জন্য ড্রামে দেওয়া হবে। এরপর কয়েক ধাপে নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হবে।

এদিকে আজ দুপুরে চামড়াশিল্প নগরী পরিদর্শনে আসেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। পরে শিল্পনগরের নানা সমস্যা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে চামড়াশিল্পকে সাভারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারণ, উচ্চমাত্রার বর্জ্য তৈরি হয় এমন শিল্প এমন জায়গায় হওয়া উচিত, যেখানে ঠিকমতো বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু যেভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে, সেই ব্যবস্থাপনা ছিল একটা ক্ল্যাসিক কেইস অব মিসম্যানেজমেন্ট। যার কারণে বর্জ্য পরিশোধনাগারটা যে ক্যাপাসিটির ছিল, সেই ক্যাপাসিটিতে ফাংশনাল আছে। যারা এখানে এসেছে, তারা সবাই জীবিত থাকতে পেরেছে। অনেকগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান মাঝপথে হারিয়ে গেছে।’

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ক্রোমিয়াম রিকভারির জন্য আরও কী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেটি নিয়ে কাজ করা হবে। এ ছাড়া স্থানান্তরের সময় যেসব প্রতিষ্ঠান ঝরে গেছে এবং পরবর্তী সময়ে অচল অথবা নিম্নমাত্রায় সচল থাকার কারণে বিপুল পরিমাণ দায়দেনার সম্মুখীন হয়েছে, সেগুলোকে কী উপায়ে আবার লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চামড়াশিল্প নগরে যারা নিজস্ব ইটিপি স্থাপন করবে, তাদের টেকনিক্যাল সাপোর্টসহ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই খাতকে পূর্ণমাত্রায় বিকশিত করতে পারলে এটিকে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত করা সম্ভব। চামড়াশিল্প নগরে চামড়াবোঝাই ট্রাক থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেখবে। এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর ব্যবস্থা নেবে।