
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে একত্র করে ১২টি দোকানঘর ভাঙচুর–লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে যেতে চাইলে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযুক্ত সোনা মহলদার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই সম্পত্তি কবরস্থানের। ওই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। এ কারণে কবরস্থান কমিটির সদস্যরাসহ তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ঘটনার সময় তিনি সংসদ সদস্যের বাসায় ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটখোলাপাড়া এলাকার মৃত খলিল দফাদারের ছয় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফেরেন। এরপর স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোনা মহলদার, সিদ্দিক মহলদার, নুরু মহলদারসহ কয়েকজন হাটখোলাপাড়া কবরস্থান কমিটির সভাপতি লিটন মালিথাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গুদামের জমি কবরস্থানের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে জমি ও মার্কেট দখলের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ৫০-৬০ বছর আগে তাঁদের দাদা হাটখোলাপাড়া কবরস্থানের জন্য ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডভুক্ত জমি বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ড হওয়ার সময় মূল দাগটি তিনটি দাগে বিভক্ত হয়। তবে কবরস্থানের জমি এবং তাঁদের মার্কেটের জমির দাগ সম্পূর্ণ আলাদা। কবরস্থানের জমির সঙ্গে মার্কেটের কোনো সম্পর্ক নেই। রাস্তাসংলগ্ন ও মূল্যবান হওয়ায় তাঁদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিরোধ সৃষ্টি করা হলেও প্রতিপক্ষ জমির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ তাঁদের।
ভুক্তভোগী সুনারুল দফাদার বলেন, সোমবার হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থান কমিটির সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে একত্র করা হয়। পরে তাঁদের দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাট করা হয়। এ সময় সোনা মহলদার ঘোষণা দেন, যেসব পরিবারের সদস্যরা ভাঙচুরে অংশ নেবেন না, তাঁদের মরদেহ ওই কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এমন ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করে ভাঙচুরে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। এ সময় সেখানে পুলিশও ছিলেন।
সুনারুল দফাদার বলেন, ‘আমি থানায় মামলা করতে যেতে চাইলে আমার বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বাইরে বের হলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি জীবনের নিরাপত্তা এবং পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে কবরস্থান কমিটির সভাপতি লিটন মালিথা বলেন, মার্কেটের জমিটি কবরস্থানের সম্পত্তি। বারবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা জমিটি কবরস্থানের দখলে দিচ্ছিলেন না। এ কারণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন। তবে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।