নড়িয়ায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় আরেক মামলা

শরীয়তপুর জেলার মানচিত্র
শরীয়তপুর জেলার মানচিত্র

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে নড়িয়া থানায় হওয়া মামলাটির বাদী কেব্‌ল ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী কনক লস্কর। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খালেদ শওকত আলীর অনুসারী।

মামলায় নড়িয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সিকদারসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। আরেক পক্ষও থানায় আরকেটি মামলার আবেদন করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে সংঘর্ষের সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করে।

নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, নড়িয়া বাজারের ইন্টারনেট ব্যবসায়ী কনক লস্করের সঙ্গে ব্যবসার বিষয় নিয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সিকদারের বিরোধ চলছিল। গোলাম মোস্তফা পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের অনুসারী। তিনি শরীয়তপুর–২ আসনে (নড়িয়া-সখিপুর) আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে কনক লস্কর তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন। রাত ৯টার দিকে গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে তাঁর অনুসারীরা কনকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে ও কনক লস্করকে মারধর করে। ওই ঘটনার শুনে সেখানে উপস্থিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খালেদ শওকত আলী। তখন তাঁর অনুসারীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষই শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে দুইপক্ষের পাঁচজন আহত হন।

পরে পুলিশ, র‌্যাব ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় রাতেই নড়িয়া থানার একজন উপপরিদর্শক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেন।

কনক লস্কর আজ শনিবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গোলাম মোস্তফা তাঁর লোকজন নিয়ে আমার দোকান ভাঙচুর করেন ও আমাকে মারধর করেন। পরে তাঁরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে আবার আমাদের ওপরে হামলা চালায় ও ধাওয়া করেন। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলীর সমর্থক। এটাই আমার অপরাধ। আমার ব্যবসা নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।’

ঘটনার বিষয় জানতে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর থেকে নড়িয়া উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলী বলেন, হামলাকারী গোলাম মোস্তফা সিকদার ও তাঁর সহযোগীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থক। ওই ঘটনায় নড়িয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষে থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা সঠিকভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনামুল হক বলেন, নড়িয়ায় আওয়ামী লীগে কোনো বিভেদ ও বিরোধ নেই। যার যার মতো সে রাজনীতি করেন। একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বিরোধের ঘটনাটি একটি পক্ষ রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে চাচ্ছেন। কারও ব্যক্তিগত বিরোধের দায় দল নেবে না। দলের মধ্যে যাঁরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থান থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় থানায় আরেকটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ওই মামলায় ছয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছে। আরেক পক্ষ থানায় একটি মামলার আবেদন করেছেন। সেটিও নথিভুক্ত করা হবে। নড়িয়ার পরিস্থিতি এখন শান্ত। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ টহল দিচ্ছে।