নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জয়ন্তীপুর বাজারে
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জয়ন্তীপুর বাজারে

চায়ের বিল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, হাসপাতালে গিয়ে আবার মারামারি, আহত ১৩

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ৪৫ টাকার চায়ের বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে কথা–কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর বাজারে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়।

পরে আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে জয়ন্তীপুর বাজারের চায়ের দোকানদার শামিম হোসেনের সঙ্গে মুদিদোকানদার মোস্তফার ৪৫ টাকার চায়ের বিল নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে বিষয়টি উভয় পক্ষের স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন বাজারে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে কয়েকজন আহত হন।

আহত ব্যক্তিদের সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে আটটার দিকে দুই পক্ষের লোকজন আবার বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁরা মারামারি শুরু করেন। খবর পেয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দুই পক্ষের লোকজন হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ইফফাত মেহেজাবীন, বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে জয়ন্তীপুর এলাকার আতাহার আলীর দুই ছেলে মোস্তফা ও মশিউরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইফফাত মেহেজাবীন বলেন, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দুই পক্ষের লোকজন হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে জানিয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন চন্দ্র দাস বলেন, পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।