
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ কলেজশিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মারুফের (২০) এখনো সন্ধান মেলেনি। গতকাল সোমবার বেলা দুইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন মারুফ। ঢেউয়ের তোড়ে তিন বন্ধু ছিটকে পড়লেও একজন সাঁতার কেটে তীরে আসেন এবং অন্যজনকে সাগর থেকে উদ্ধার করেন লাইফগার্ড কর্মীরা। নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পরও মারুফের সন্ধান না পাওয়ায় তাঁর অপেক্ষায় বালুচরে প্রহর গুনছেন স্বজনেরা। বাড়িতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তাঁর মা–বাবা।
নিখোঁজ মারুফ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। উদ্ধার হওয়া অন্য দুজন একই কলেজে পড়েন।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, নিখোঁজ মারুফের সন্ধানে সাগরে একাধিক দল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীদের ধারণা, স্রোতে ভেসে যাওয়া মারুফ গুপ্তখালে আটকে থাকতে পারেন। সৈকতে একাধিক গুপ্তখালের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে তল্লাশি চালানোর মতো প্রশিক্ষণ লাইফগার্ড কর্মীদের নেই। আবার সাগরের তলদেশে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডুবুরিও নেই কক্সবাজারে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে কলাতলী পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সাগরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন নিখোঁজ মারুফের চাচা মোস্তফা কামাল (৫০)। সঙ্গে মারুফের ভাই আবদুল্লাহ আল মাহফুজ (৩০)। কাঁদতে কাঁদতে মাহফুজ বললেন, ‘ভাইটা বিশাল সাগরের কোথায় লুকিয়ে আছে, একমাত্র আল্লাহ জানেন। সকাল থেকে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রাপ্ত দৌড়াচ্ছি, কোথাও পাচ্ছি না। ঘরে মা–বাবা দুজনই অজ্ঞান পড়ে আছেন। দুই বন্ধুর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে এই হাল হলো।’
চাচা মোস্তফা কামাল বলেন, মারুফের নিখোঁজ হওয়ার খবর শোনার পর থেকে তাঁর মা–বাবা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বাড়িতে দুজনকে রেখে তাঁরা গতকাল কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। সকালে বাস থেকে নেমে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, লাবণী, নাজিরারটেক পয়েন্টে দৌড়ঝাঁপ করছেন। কিন্তু কোথাও মারুফের সন্ধান পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা মারুফকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছি, এখন লাশটা পেলেই হবে।’ বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সৈকতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিচ কর্মীদের তত্ত্বাবধায়ক বেলাল হোসেন বলেন, সকাল থেকে কলাতলী–নাজিরারটেক পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সৈকতে একাধিক দল তল্লাশি চালাচ্ছে। এ ছাড়া দরিয়ানগর, হিমছড়ি, মহেশখালী, সোনাদিয়া, ইনানী সৈকতেও কোনো লাশ ভেসে উঠেছে কি না, অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত মারুফের খোঁজ মেলেনি। এখন রাতে অভিযান চালানো সম্ভব নয়।
বিচ কর্মীদের আরেক তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান বলেন, রাত আটটায় সাগরে জোয়ার শুরু হবে। থাকবে আগামীকাল বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। ততক্ষণ মারুফের স্বজনদের অপেক্ষা করতে হবে।
কয়েকজন বিচ ও লাইফগার্ড কর্মী জানান, বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় গোসলে নামতে নিষেধ করে সৈকতে একাধিক লাল নিশানা ওড়ানো হয়েছে। এরপরও অনেকে গোসলে নেমে বিপদে পড়ছেন। গতকাল দুপুরে ভাটার সময় গাজীপুরের তিন বন্ধু কলাতলী পয়েন্টে গোসলে নামেন। গলাসমান পানিতে তাঁরা ঢেউয়ের সঙ্গে খেলছিলেন। মুহূর্তে ঢেউয়ের তোড়ে মারুফ ও শাওন গভীর সাগরে ভেসে যান। পরে শাওনকে উদ্ধার করা হয়।