জমি বুঝে না পাওয়ায় মহাসড়কের প্রায় ৩০ মিটার অংশে সার্ভিস লেন নির্মাণ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে চলছে তিন চাকার যান। সোমবার বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুরে
জমি বুঝে না পাওয়ায় মহাসড়কের প্রায় ৩০ মিটার অংশে সার্ভিস লেন নির্মাণ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে চলছে তিন চাকার যান। সোমবার বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মহিপুরে

বগুড়ার শেরপুর

মহাসড়কের ৩০ মিটার অংশে ‘সার্ভিস লেন’ নেই, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের মহিপুরে অন্তত ৩০ মিটার অংশে এখনো ‘সার্ভিস লেন’ করা হয়নি। এ কারণে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই সেখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। কখনো কখনো যাচ্ছে মানুষের প্রাণ।

ধীরগতির ছোট যানবাহন নিরাপদে চলাচলের জন্য মহাসড়কের দুই পাশে নির্মাণ করা হয় পৃথক লেন, যা সার্ভিস লেন হিসেবে পরিচিত। মহিপুর এলাকার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনের এই স্থানে গত তিন বছরে অন্তত ১৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক রইছ উদ্দিন। তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় মহাসড়কে গাড়ির চাপ থাকে বেশি। এ কারণে এই স্থানের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। এ স্থানেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্ঘটনায় শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার আহসান হাবীব নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এখানে বিভিন্ন গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সার্ভিস লেন দিয়ে আসা তিন চাকার গাড়িগুলো ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে এসে মহাসড়কে উঠতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ, সেখানে ফায়ার সার্ভিসের প্রধান ফটকের পরেই মহাসড়ক শুরু হয়েছে।

পথচারী রফিকুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন বলেন, মহিপুর এলাকায় ২০২০ সালে চার লেন উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে মহিপুর এলাকায় মহাসড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে সার্ভিস লেনসহ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের প্রধান ফটকের অংশটি অপসারণ না করায় মহাসড়কের এই উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো সার্ভিস লেন তৈরি করেনি। এ কারণে এই স্থানে গত ঈদুল ফিতরের সময় বাড়ি ফেরা মানুষদের এই স্থানের দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে এই স্থানে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে দুটি ইজিবাইক গাড়ি। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী গাড়ি চাপা দেওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ বছরও ঈদুল আজহায় ঘরমুখী মানুষদের আতঙ্কে এই স্থান পার হতে হবে।

শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বখতিয়ার উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সার্ভিস লেন না থাকার কারণে তাঁদের কর্মকাণ্ড পরিচালনাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফায়ার সার্ভিসের চত্বর থেকে গাড়ি বের করা নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চত্বর থেকে উদ্ধারকারী গাড়ি বের করতে গিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আহসান হাবীব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসির (কনকর্ড প্রগতি কনসোরটিয়াম) প্রকৌশলী শামসুজ্জোহা আল শহিদুল হক বলেন, ওই স্থানের জমির অংশটুকু তারা বুঝে না পাওয়ার কারণে সার্ভিস লেনটি তৈরি করতে পারেননি। তাঁদের কাছে জমি হস্তান্তর করা হলেই তাঁরা দ্রুত ওই অংশটুকুর সার্ভিস লেন তৈরি করে দেবেন।

মহাসড়কের সার্ভিস লেনে অটোরিকশার চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে উপজেলার ১০ মাইল বাজার পর্যন্ত মহাসড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের উভয় সার্ভিস লেন দিয়ে যাত্রী আনা-নেওয়া করেন। মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ফায়ার সার্ভিসের সামনে সার্ভিস লেন তৈরি না করার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তাঁদের তিন চাকার গাড়ি ফায়ার সার্ভিসের সামনে দিয়ে মহাসড়কের ওপর উঠতে হয়।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু প্রথম আলোকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের এই জায়গার অংশটুকু অধিগ্রহণ করা নিয়ে এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ কারণে ওই অংশে সার্ভিস লেন তৈরি হয়নি। আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখী মানুষের কোনো গাড়ি এই স্থানে দুর্ঘটনার কবলে না পড়ে, সে জন্য তিনি শেরপুর থানা ও হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে দুর্ঘটনা রোধের উদ্যোগ নেবেন।