গত শুক্রবার কক্সবাজার শহরের বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়
গত শুক্রবার কক্সবাজার শহরের বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়

কক্সবাজারে স্টেডিয়ামে ভাঙচুর

দুই মামলায় ইজারাদারসহ এক হাজার আসামি

কক্সবাজার শহরের প্রাণকেন্দ্রে বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এতে ইজারাদারসহ দুজনকে এজাহারনামীয় আসামি এবং আরও অন্তত এক হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এতে এজাহারনামীয় আসামি করা হয় শহরের বাইপাস সড়কের জেলখানা এলাকার মো. ইব্রাহিম বাবু ও পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়ামপাড়ার শাফায়াত হোছাইনকে। দুজনই টুর্নামেন্ট পরিচালনার ইজারাদার ও টিকিট বিক্রেতা। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় পাঁচ শ–সাত শজনকে।

সরকারি কাজে বাধা, পুলিশসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর হামলার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব পাল। এতে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে ২৫০–৩০০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস খান প্রথম আলোকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও সংগ্রহ করে হামলাকারী ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এজাহারনামীয় দুই আসামি ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে আছেন।

পুলিশ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটায় টেকনাফ ও রামু উপজেলার মধ্যে ফাইনাল ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ ’-এ জেলার নয়টি উপজেলা দল অংশ নেয়। এর মধ্যে সাতটি ম্যাচ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক ভেঙে কয়েক হাজার দর্শক ভেতরে ঢুকে পড়েন।

এরপর তাঁরা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালান। ইটপাটকেল নিক্ষেপে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী, সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেনসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অতিরিক্ত টিকিট বিক্রির অভিযোগ

জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বাদী হয়ে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রকাশ্য দরপত্রের মাধ্যমে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় ফাইনালসহ খেলার দায়িত্ব পান ইব্রাহিম বাবু ও শাফায়াত হোছাইন। তাঁদের বারবার সতর্ক করা হলেও তাঁরা গ্যালারির ধারণক্ষমতার চার–পাঁচ গুণ বেশি টিকিট ছেপে বেশি দামে বিক্রি করেন।

১২ সেপ্টেম্বর দুপুরের আগেই হাজারো দর্শক গেটে ভিড় করেন। পরে কয়েক হাজার উচ্ছৃঙ্খল দর্শক ভেতরে ঢুকে হামলা চালান। এ সময় স্টেডিয়ামের চেয়ার-টেবিল, সাউন্ড সিস্টেম, খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, ভিআইপি গ্যালারি ও অফিসকক্ষ ভাঙচুর করা হয়। ফাইনালের জন্য তৈরি স্টেজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এসআই রাজীব পাল বাদী হয়ে করা অপর মামলায় বলা হয়, প্রায় ১৫–২০ হাজার দর্শকের মধ্যে ২৫০–৩০০ জন উচ্ছৃঙ্খল যুবক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর হামলা চালান। এতে ইউএনও নিলুফা ইয়াসমিন, পুলিশ পরিদর্শক ফারুক হোসেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সরোয়ার রোমন, সালাহউদ্দিন, এসআই রাজীব পালসহ অন্তত ২৯ জন আহত হন।

ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।