
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বজায় রাখার দাবিতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ সড়ক অবরোধ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত খুলনা–মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া ও কাটাখালী মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।
অবরোধে অংশগ্রহণ করেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ। মহাসড়কের দুই পাশে দুটি বড় ট্রাক দাঁড় করিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এতে দূরপাল্লার শত শত গাড়ি আটকে পড়ে। যাত্রীদের দুর্ভোগ হলেও দাবির পক্ষে অনেকের মধ্যেই সহানুভূতি ছিল।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাটে চারটি আসন রয়েছে। হঠাৎ একটি আসন কমানোর প্রস্তাব দিয়ে নির্বাচন কমিশন এখানকার মানুষকে অবমূল্যায়ন করেছে। আমরা এই অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেব না।’
গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের একটি খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটে চারটি আসনের পরিবর্তে তিনটি আসন থাকবে। এর পর থেকে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলেন, জনসংখ্যা বা ভৌগোলিক বিচারে বাগেরহাটের গুরুত্ব কমেনি; বরং বেড়েছে। আসনসংখ্যা কমানো মানে, এখানে জনপ্রতিনিধিত্বের সুযোগ কমে যাওয়া।
সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, ‘এটি শুধু একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি জেলার সম্মান ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আমরা বাগেরহাটের পক্ষে, বাগেরহাটবাসীর পক্ষে লড়ছি।’
একই দাবি নিয়ে এর আগে জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া, বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে আসন পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত শুনানি হওয়ার কথা।