পাবনার পদ্মা নদী থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে লাশ বহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন পাবনা সদর উপজেলার মো. নাঈম (১৮), ইয়াসিন শেখ (১৮) ও অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোর। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন ওই কিশোরীর ভাই।
গতকাল বুধবার বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান।
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিরোধের একপর্যায়ে ওই কিশোরীকে হত্যা করা হয়। পরে বন্ধুদের সহায়তায় কিশোরীর লাশ বস্তাবন্দী করে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরী পাবনা সদর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ও উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান জানান, ওই কিশোরীর সঙ্গে নাঈমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নাঈমের বাড়িতে যায় সে। সেখানে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কিশোরীকে নাঈম হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। পরে দুই বন্ধুর সহায়তায় লাশটি একটি বস্তায় ভরে প্রাইভেট কারে নিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, লাশ উদ্ধারের পর থেকে পুলিশের একাধিক দল কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয় এবং ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
গতকাল সকালে কয়েকজন কৃষক পদ্মার চরে কাজ করতে যাওয়ার সময় একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে তাঁরা বস্তাটি পরীক্ষা করে ভেতরে মানুষের দেহের মতো কিছু অনুভব করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন তাঁর দুই হাত বাঁধা ছিল এবং গলায় একটি বাজারের ব্যাগ প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।