
নাটোরের সিংড়ায় গোল-ই আফরোজ সরকারি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে কলেজ ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সিংড়া থানার উপপরিদর্শক আবদুর রহিম বলেন, তাঁরা কলেজে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছেন। পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, কলেজ ছাত্রাবাসে প্রায় ৬০ জন ছাত্র থাকেন। তাঁদের অধিকাংশ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ছাত্র সংসদের সদ্যবিদায়ী সহসভাপতি (ভিপি) সজিব ইসলামের অনুসারী। তাঁদের নতুন করে ছাত্রাবাসে ভর্তি হতে হবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়। বুধবার সকালে কলেজছাত্র সংসদের নবনির্বাচিত ভিপি মাসুম আলীর অনুসারীরা যাঁদের ভর্তির কাগজ নেই, তাঁদের ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সজিব ইসলাম বলেন, বেলা তিনটার দিকে ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে তাঁর অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাদের বিছানাপত্র, বইখাতা, আসবাব বাইরে ফেলে দেন ভিপি মাসুমের অনুসারীরা। এ সময় প্রতিবাদ করলে তাঁর পক্ষের উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল হাকিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরশিদুল ইসলামসহ কয়েকজনের ওপর হামলা করা হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ছাত্রলীগ নেতা হাকিমের দাবি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় তাঁদের টাকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সার্টিফিকেট হারিয়ে গেছে।
ভিপি মাসুম আলী বলেন, ‘অনেকে ভর্তি না হয়ে অবৈধভাবে ছাত্রাবাসে থাকেন। তাঁদের বের করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁরা নিজেদের বিছানা ও আসবাব নিজেরাই এলোমেলো করেছেন। আমরা ওই সময় স্যারদের সঙ্গে সভা করছিলাম।’
সজিব ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রাবাসের সবাই আমার অনুসারী। এ জন্য তাঁদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। কারও কোনো টাকা বাকি নেই, সবাই ভর্তি হওয়া ছাত্র।’
কলেজটির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. জহির উদ্দিন বলেন, ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রদের সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।