
এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসভবনে পৌঁছান।
সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারামুক্তির খবরে রাত ১১টা থেকে তাঁর বাড়ির সামনে স্বজন ও কর্মী–সমর্থকেরা ভিড় করেন। দীর্ঘদিন পর আইভী বাসায় ফেরায় তাঁরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।
বাসায় পৌঁছানোর পর দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিচার বিভাগের প্রতি অসম্ভব কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং সরকারের প্রতিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই, সকলকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো অনেক মায়েরা আছেন, তাঁরা নিরপরাধ। আশা করছি, সরকার তাঁদের প্রতিও সদয় হবে।’
সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ের ৩টি হত্যা মামলা, ২টি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি একাধিকবার জামিন পেলেও নতুন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর তাঁর মুক্তির পথ খোলে।
আইভীর মুক্তির সময় কারাফটকে তাঁর আইনজীবী ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। ২০১১ সালে প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা শামীম ওসমানকে এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আইভী মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি সব সময় নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
আইভী বাসায় পৌঁছালে তাঁর স্বজন, শুভান্যুধায়ী ও সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ মাসুদ, আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম, শাহীন মাহমুদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।