মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম

এমপি মনিরুল হককে কটূক্তির অভিযোগে কুমিল্লায় মামলা, আসামি মুফতি ফয়জুল করীম

কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত শনিবার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলাটি করা হয়। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে আজ বুধবার।

মামলার অপর আসামি নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর (উলুরচর) এলাকার কাদের মিয়াজী (৫০)। মামলার বাদী জালাল আহমেদ (খোকন তালুকদার), নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের শামবক্সী এলাকার বাসিন্দা

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বুধবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক, কটূক্তিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে তাঁর দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ফেসবুক পোস্টে তাঁর ছবি ব্যবহার করে তাঁকে ‘গুপ্ত’ আওয়ামী লীগ নেতা ও ইসলামবিদ্বেষী বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া মামলায় মুফতি ফয়জুল করীম ও অপর আসামি কাদের মিয়াজীর বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মামলার বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মামলার বাদী জালাল আহমেদ নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করলেও স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতারা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া সংসদ সদস্য নিজেও মামলার বিষয়টি জানতেন না বলে জানিয়েছেন।

কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ দাবি করেন, জালাল আহমেদ যুবদল বা বিএনপির কোনো পদে নেই।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমার নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেই মামলা করেছি। আমি যে যুবদল কমিটিতে আছি, সেটি এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর ঘোষিত কমিটি।’

এদিকে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফের নামে প্রকাশিত এক ফেসবুক পোস্টে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান মামলাটিকে ‘ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতা’ বলে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে মামলার বাদী অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়।

বুধবার রাতে দলের ফেসবুক পেজে আরেক পোস্টে মামলা প্রত্যাহারের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। দলটি বলেছে, ২৫ জুনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে ২৬ জুন সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী দাবি করেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি মামলার খবর জেনেছেন। অভিযোগের বিস্তারিত তিনি এখনো জানেন না। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি এখনো কথা বলিনি। মামলা করলে আনুষ্ঠানিকভাবেই করতাম। কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করলে আমাকে জানাতে পারত। আমাকে না জানিয়ে মামলা হলো কীভাবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশকে মামলার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেছি। আমি মামলা করলে ঢাকায় করব।