বাংলাদেশ পুলিশের লোগো
বাংলাদেশ পুলিশের লোগো

সিরিয়াল ভেঙে তেল সংগ্রহ, চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সদস্যকে জরিমানার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় একটি পেট্রলপাম্পে সিরিয়াল অমান্য করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এক পুলিশ সদস্যকে জরিমানা করায় পুলিশের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের মধ্যে যথাযথ সমন্বয়, দায়িত্বশীল আচরণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলায় জ্বালানি তেল সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি এম তারিকুজ্জামান আজ শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, আলোচিত বিষয়টির সন্তোষজনক সমাধানে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আলমডাঙ্গা শহরের হক ফিলিং স্টেশনে সিরিয়াল ভেঙে জ্বালানি তেল সংগ্রহের অভিযোগে আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ সদস্য তৌহিদুল ইসলামকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল মো. ছাফিউল্লাহ। গত বৃহস্পতিবার ইউনিফর্ম ও হেলমেট পরিহিত পুলিশ সদস্যকে জরিমানার ওই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।

জেলা পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত ২৯ মার্চ জ্বালানি তেলসংক্রান্ত সভায় জরুরি সেবায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল প্রশাসন ও সাংবাদিকেরা বিকল্প লাইনে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্ত মেনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তেল সংগ্রহ করে আসছেন। কিন্তু ১৬ এপ্রিল একজন পুলিশ সদস্য জরুরি লাইনে তেল সংগ্রহ করতে গেলে কর্মরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জরিমানা করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে সর্বদা জনগণের নিরাপত্তা প্রদান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবায় নিয়োজিত। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা পুলিশ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে আসছে। জরুরি পরিষেবার অংশ হিসেবে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত পুলিশ সদস্যদের মনোবলে বিরূপ প্রভাব ও জনসেবায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের মধ্যে যথাযথ সমন্বয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূলত ভুল–বোঝাবুঝির কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পুলিশ সদস্যকে জরিমানার ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মধ্যে আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকেও আগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করে আলোচিত বিষয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।’