জয়পুরহাট পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নতুনহাট এ বছর ১২ কোটি ১২ লাখ ১১২ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে
জয়পুরহাট পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নতুনহাট এ বছর ১২ কোটি ১২ লাখ ১১২ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে

জয়পুরহাটের নতুনহাটে ইজারায় রেকর্ড, ১২ কোটির বেশি দর

জয়পুরহাট পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নতুনহাট এখন শুধু গবাদিপশুর বৃহৎ বাজারই নয়, পৌরসভার রাজস্ব আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। চলতি বছর হাটটি ১২ কোটি ১২ লাখ ১১২ টাকায় ইজারা হয়েছে, যা পৌরসভার ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ।

নতুনহাটে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে—শনিবার গরুর এবং বুধবার ছাগলের। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি শনিবারে ছয় থেকে সাত হাজার গরু কেনাবেচা হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে হাটটি জমজমাট থাকে।

পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে হাটের ইজারা কার্যক্রম একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। বরং নামসর্বস্ব ও অচল পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখা হতো। এতে বাইরের আগ্রহী দরদাতারা অংশ নিতে পারতেন না।

সর্বশেষ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র মোস্তাফিজুর রহমানের আমলে হাটটি ২ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ১১১ টাকায় ইজারা দেওয়া হয় জয়পুরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কালীচরণ আগরওয়ালার নামে। পরে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হাটটি ৮ কোটি ৮৮ লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৮ টাকায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শামস-মতিনের নামে ইজারা দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি একই ঠিকাদার ১২ কোটি ১২ লাখ ১১২ টাকায় ইজারা পান।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, হাটটির ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যাপক সমাগমই উচ্চ দর পাওয়ার প্রধান কারণ। নতুনহাটকে কেন্দ্র করে পরিবহন, খাদ্য, খামার সরঞ্জাম ও ক্ষুদ্র ব্যবসার একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারেরা এখানে আসেন। দেশি-বিদেশি জাতের গরু, খাসি ও ছাগলের বড় সমাবেশ এই হাটকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, আশির দশকে নতুনহাটের যাত্রা শুরু। সময়ের সঙ্গে এটি দেশের অন্যতম বড় পশুর হাটে পরিণত হয়েছে। প্রতি শনিবারে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পর্যন্ত গরু ও বাছুর হাটে ওঠে বলে স্থানীয় লোকজন জানান। কোরবানির ঈদের সময় এই সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ভোর থেকে কেনাবেচা শুরু হয়, অনেক পাইকার আগের দিনই এসে অবস্থান নেন। প্রতি হাটে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। বুধবারে ছাগলের হাটেও ব্যাপক বেচাকেনা হয়।

নতুনহাট এলাকার বাসিন্দা নুর আলম আনছারী বলেন, শনিবার হাটবারের দিন পা রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। অনেক গরুর আমদানি হয়। সড়কেও ভিড় থাকে। নামকরণের কারণে নতুনহাট নতুনই থাকবে কখনো পুরোনো হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গত শনিবার ফেনী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী রোস্তম আলী বলেন, ‘আমরা ১০ থেকে ১২ জন ব্যবসায়ী ১৫ বছর ধরে জয়পুরহাটের নতুনহাট থেকে গরু ক্রয় করছি। একাই ২৭ লাখ টাকার গরু কিনেছি।’

জয়পুরহাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রেজা বলেন, নতুন হাট শুধু একটি বাজার নয়, জয়পুরহাটের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। গত দুই বছরে নতুনহাট থেকে পৌরসভার রাজস্ব বেড়েছে। তিনি আরও জানান, সিন্ডিকেটের কারণে অতীতে ন্যায্য দরে ইজারা হয়নি।

জয়পুরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উত্তম কুমার রায় বলেন, পৌরসভার নতুনহাট ইজারায় এবার সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। হাটটি ১২ কোটি ১২ লাখ ১২২ টাকায় ইজারা হয়েছে।‎