নরসিংদীর রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত আরেকজনের লাশ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম-সংলগ্ন নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত তিনজনের লাশ পাওয়া গেল।
নিহত ব্যক্তির নাম লতিফ মোল্লা (৩২)। তিনি রায়পুরার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। মালয়েশিয়াপ্রবাসী এই যুবক গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন। তাঁর সংসারে ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুটি মেয়ে আছে। গত মঙ্গলবার সংঘর্ষের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
মঙ্গলবার ভোরে রায়পুরার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন অনিক (২২) নামের একজন, পরদিন গতকাল বুধবার কাওসার আহমেদ (৩৭) নামের একজন এবং আজ লতিফ মোল্লার লাশ উদ্ধার হয়। এ ছাড়া এলাকার আরও কয়েকজন এখনো নিখোঁজ আছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ববিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই আলাল মুন্সির সমর্থকেরা এলাকার বাইরে ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে তাঁরা স্পিডবোটে ভাড়াটে অস্ত্রধারীদের নিয়ে নিলক্ষ্যায় ঢুকে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিতে হামলা করেন। এরপরই দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বেলা ১১টার দিকে নিলক্ষ্যার হরিপুরে মেঘনা নদীতে একটি লাশ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তাঁরা নৌকায় করে লাশটি তীরে টেনে আনেন। খবর পেয়ে লতিফ মোল্লার স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর লাশ শনাক্ত করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করেন।
নিহত লতিফের ভগ্নিপতি রবি মিয়া বলেন, ‘শুনেছি সংঘর্ষে অংশ নিয়েছিলেন লতিফ মোল্লা। ওই দিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাঁর ওপর হামলা হয়। এর পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। হত্যার পরে তাঁর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। দুই দিন পর আজ তাঁর লাশ ভেসে উঠল।’
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।